কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভ

সাধারণ ছাত্রঅধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পাঁচ দফা দাবি, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারক প্রদান

সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করেছেন সহস্রাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্রঅধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।

কর্মসূচির শুরু থেকেই ওই এলাকায় বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন ছিল। প্রায় ৪০ মিনিট বিক্ষোভ চলার পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়।

শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা বিভিন্ন প্লাকার্ডে ও স্লোগানে স্লোগানে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। প্লাকার্ডগুলোয় লেখা হয়, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কোটা বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘১০%–এর বেশি কোটা নয়’, ‘নাতি পুতি কোটা বাতিল কর’, ‘নিয়োগে অভিন্ন কার্ড মার্ক নিশ্চিত কর’।

কোটা প্রথা সংস্কারে সাধারণ ছাত্রঅধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পাঁচ দফা দাবি হল- সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

এ আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারুক হাসান বলেন, “আমাদের এই আন্দোলন কোটার বিরুদ্ধে নয়, এটা কোটা সংস্কারের আন্দোলন। বঙ্গবন্ধু যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা এর অন্তরায়। আমরা চাই কোটা সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া হোক।”

পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পর আন্দোলনকারীদের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যায়।

দাবি আদায় না হলে আগামী ৪ মার্চ মুখে কালো কাপড় বেঁধে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা রয়েছে আন্দোলনকারীদের।