কেউই মানছে না আচরণবিধি, প্রশাসন নিরব

রাস্তা বন্ধ করে চলছে প্রচারণা, পথসভা। যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাত্রই ১২ দিন বাকি। প্রচারণার ১০ম দিন পর্যন্ত প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন মাঠ। কোমর বেঁধে নেমেছেন সহযোগী সংগঠন ও নেতাকর্মীরা। আর অবাধে প্রচারণার ফাঁকে মেয়র প্রার্থীদের প্রায় সবাই আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন নিয়মিত। কখনো নিজে, কখনো বা সমর্থকরা; পিছিয়ে নেই কেউই।

ইতিমধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জমা পড়েছে বেশ কয়েকটি। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় এখনো একই বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, ‘তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে’। বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন কামরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন মোট ৪ টি। এর সবই আচরণবিধি ভঙ্গের লিখিত অভিযোগ। তবে প্রতিকার মেলেনি এখনো।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, আমাদের করা কোনো অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনো কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় নি। এক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় পক্ষপাতিত্ব করছেন বলে অভিযোগ বিএনপির এই নেতার। তিনি আরো বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে হলেও প্রশাসনের উচিৎ নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আমাদের সবকটি অভিযোগই সুনির্দিষ্ট এবং এর স্বপক্ষে প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়েছে।

তবে বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তাদের ভাষ্যমতে, ‘এসব অভিযোগ শুধু নির্বাচনকে বিতর্কিত করতেই করা হচ্ছে। পরাজয় টের পেয়ে আবোল তাবোল বকছেন বিএনপি নেতারা।’

বিএনপির বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে আচরণবিধি ভঙ্গের। এ পর্যন্ত দুটি লিখিত অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তবে এই দুই অভিযোগের ব্যাপারেও দ্বিমত পোষণ করেছেন বিএনপি নেতারা। তাদের বক্তব্য ‘নিজেদের দোষ ঢাকতেই এমন অভিযোগ করছেন’।

তবে অভিযোগ যাই হোক না কেন, আচরণবিধি যে কেউই পুরোপুরি মেনে চলছেন না এটাও ঠিক। বুধবার (১৮ জুলাই) বিএনপির অভিযোগ ছিলো আওয়ামী লীগ প্রার্থীর দলীয় প্রতীকে আলোকসজ্জা করে স্থাপন করেছেন। একাধিক গণমাধ্যমেও এমন ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

অপরদিকে, বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হকের পক্ষে ধানের শীষের শ্লোগান দিয়ে মিছিল করেছেন ২০ দলীয় জোটের শরিক জমিয়তে উলামা। যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বুধবার (১৮ জুলাই) নগরীর আম্বরখানা থেকে মিছিলটি সাপ্লাই পর্যন্ত এসে শেষ হয়।

তবে এর ফাঁকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন স্বতন্ত্র মেয়র পার্থী জামায়েতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও। বুধবার কাজিটুলা এলাকায় টেবিল ঘড়ি প্রতিকের সমর্থনে রাস্তা বন্ধ করে পথসভা করেন তিনি। তবে তিনি এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘনের ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সব প্রার্থীই হরহামেশা এমন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। যারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন তারা নিরব। ঠিক কি কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় নিরবতা পালন করছেন এটা বোধগম্য হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখালে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।