কুলাউড়ায় রাস্তার ইট তুলে নিলেন ইউপি সদস্য!

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি রাস্তা থেকে ১৭ হাজার ইট তুলে নিয়েছেন টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল মালিক ফজলু। এলাকাবাসীর এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুলাউড়া থানা পুলিশ রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া ইটগুলো জব্দ করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, টিলাগাঁও ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত লংলা থেকে বেজাবন্দ পর্যন্ত রাস্তার প্রায় ১৭ হাজার ইট তুলে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মালিক ফজলু। ইটগুলো রাস্তা থেকে তুলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা শামীম মিয়া, শহিদ মিয়া, হারিছ মিয়া ও ফরিদ মিয়া জানান, মেম্বারের উদ্দেশ্য যদি ভালো হতো তাহলে তিনি ইটগুলো তুলে তার বাড়িতে নিতেন না। বিষয়টি তারা তাৎক্ষণিকভাবে কুলাউড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। ইউএনও’র নির্দেশে কুলাউড়া থানার এসআই খসরুল আলম বাদল ঘটনাস্থলে যান এবং ইটগুলো জব্দ করেন। মেম্বার ফজলুর বাড়িতে এখনও অনেক ইট আছে বলে অভিযোগকারীরা জানান।

অভিযুক্ত আব্দুল মালিক ফজলু জানান, ২০১৪-১৫ সালে ১ লক্ষ টাকা এবং ২০১৫-১৬ সালে ২ লক্ষ টাকায় ইটসোলিং করা হয়। বর্তমানে এক কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের অনুমোদন দেয়া হয়। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এই ইট দিয়ে একই ওয়ার্ডের অন্য একটি রাস্তায় কাজ করানো জন্য বলেন। এতে এমপি সাহেব রাগান্বিত হয়ে মুলত ইটগুলো জব্দ করান।

টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক জানান, আগে ইট সোলিং করা হয়। বর্তমানে রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য টেন্ডার হলে, ইটগুলো তুলে অন্য রাস্তায় ব্যবহারের জন্য নেয়া হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইটগুলো আবার ফজলু মেম্বারের জিম্মায় রেখে এসেছেন। ইটগুলো অন্য রাস্তায় কাজে লাগানোর জন্য ইউএনও’র কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

কুলাউড়া থানার এসআই খসরুল আলম বাদল জানান, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বৈদ্যশাসনে এলাকার আবিদ আলী বাড়িতে আড়াই ৩ হাজার ইট এবং গফুর মিয়ার বাড়িতে ৪/৫’শ ইট পাই। ইটগুলো স্থানীয় লোকজনের জিম্মায় রেখে এসেছি। তবে মেম্বার ফজলুর বাড়িতে যাই নাই।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বি জানান, স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি পুলিশ পাঠিয়ে ইটগুলো জব্দ করাই। এলাকাবাসীর অভিযোগ এখানে মোট ১৭ হাজার ইট হবে। তবে জব্দ করা ইটের পরিমান ৫-৬ হাজার হবে। বিষয়টি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।