কুলাউড়ায় মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে সর্বস্বহারা এক পরিবার

মিথ্যা একাধিক মামলায় জড়িয়ে কুলাউড়ার জয়চন্ডী ইউনিয়নের একটি পরিবার এখন সর্বস্বহারা। এসব মামলা চালাতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম ওই পরিবার। সেই সাথে অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকিতে পরিবার পরিজন নিয়ে রয়েছেন উদ্বেগ উৎকন্ঠায়।

ভুক্তভোগি ওই পরিবারের প্রধান জয়চন্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ঠিকাদার মো. আব্দুল হামিদ স্ত্রী সন্তানসহ প্রেসক্লাব কুলাউড়ায় সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা মামলা থেকে পরিত্রাণ ও পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদে বসবাসের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ঠিকাদার মো. আব্দুল হামিদ জানান, তিনি ইস্পাহানী কোম্পানির মালিকানাধীন গাজীপুর চা বাগানের মেহেদিবাগ শাখায় ঠিকাদারি কাজ করেন। একই ইউনিয়নের দানাপুর গ্রামের জনৈক মতই বখস বাগানের চৌকিদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাগান কর্তৃপক্ষ তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। এরপর থেকেই মূলত মতই বখসের নেতৃত্বে তার আত্মীয় স্বজনরা প্রতিপক্ষ হয়ে উঠে।

এরই জের ধরে ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর উক্ত মতই বখস তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমি ও আমার ২ চাচাতো ভাই আহত হই। এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করলে মতই বখস ও তার সহযোগিরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ছিনতাই, ধর্ষণ, টাকা পাওনার মিথ্যা অভিযোগে ৫টি পরিকল্পিত মামলা দায়ের করে। ইতোমধ্যে ২টি মামলা খারিজ করেছেন আদালত। মতই বখসের স্ত্রীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলারও পুলিশী তদন্ত প্রতিবেদনে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া একাধিক স্থানীয় শালিসে মতই বখসের অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

তিনি আরও জানান, শুধু মামলা দিয়েই মতই বখস ও তার সহযোগিরা থেমে নেই। অব্যাহতভাবে মোবাইল ফোনে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এব্যাপারে আমি গত জানুয়ারি মাসে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করি। কিন্তু সেই অভিযোগের পরও মিথ্যা মামলা করেছে উক্ত মতই বখস। মামলা চালাতে চালাতে তিনি এখন সর্বস্ব হারা হতে চলেছেন। স্ত্রীসহ ৭ সন্তান নিয়ে রয়েছেন উদ্বেগ-উৎকন্ঠায়।

ঠিকাদার মো.আব্দুল হামিদ বলেন, আমি অপরাধী হলে আমার বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিক। না হলে কেন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আমার জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়েছে।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামীম মুসা জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।