কালো টাকায় আঁতাত করে সিলেটে ছাত্রদলের কমিটি

‘সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন মৎস্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন দিনার মুরগী ব্যবসায়ী। তাদের দু’জনের একজন এসএসসি উত্তীর্ণ, অন্যজন অকৃতকার্য। আছে স্ত্রী-সন্তানও। একই অবস্থা মহানগর ছাত্রদলের। সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ এইচএসসি পাশ করলেও চাকুরী করছেন আদালতে মুহুরী হিসেবে। আর সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি আহসান ২০০৩ সালে ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলে যোগ দেন। এরপর থেকে ছিলেন প্রবাসে। তিনিও এইচএসসি পাশ করতে পারেননি।’

এভাবেই জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির নেতাদের পরিচয় দেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন রুবেল।

মঙ্গলবার (৩ জুলাই) সিলেট ছাত্রদলের পদত্যাগী নেতারা সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন রুবেল।

লিখিত বক্তব্যে রুবেলের অভিযোগ, ‘১/১১ এর চিহ্নিত দালাল এবং সরকারের এজেন্সি হিসেবে কাজ করে আসা বিতর্কিত বিএনপি নেতার ইন্ধনে দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলে আসছে। এরই অংশ হিসেবে সিসিক নির্বাচনে দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রলোভনের মাধ্যমে অযোগ্য, অশিক্ষিত, অনভিজ্ঞ এবং অদূরদর্শী কর্মীদেরকে সংগঠনের মূল দায়িত্বে মনোনীত করা হয়েছে। যা সংগঠনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। যার কারণে দলের দুঃসময়ে শিক্ষিত, ত্যাগী, ভদ্র, নির্যাতিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংগঠনের কাজ করার মনোবল হারিয়ে ফেলেছে। কালো টাকায় আঁতাত করে সিলেট ছাত্রদলের এ কমিটি করা হয়েছে।’

লিখিত বক্তব্যে আশরাফ উদ্দিন রুবেল আরো বলেন, ‘গত ১৩ জুন সিলেট ছাত্রদলের যে কমিটি গঠন করা হয়। এতে মৎস্য আড়ৎ ব্যবসায়ী নেতা, বিবাহিত ও ৩ সন্তানের জনক, চিহ্নিত ছিনতাইকারী এবং স্কুলের গন্ডি পেরুতে পারিনি এমন কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়েছে। যার জন্য সিলেটের তৃণমূল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মর্মাহত ও বিস্মিত। গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কমিটি দিয়ে ছাত্রদলের ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে।’

সংবাদ সম্মেরনে আরো উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত কমিটি থেকে পদত্যাগ করা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম, সহ সভাপতি মাশরুর রাসেল, যুগ্ম সম্পাদক সোহেল ইবনে রাজা, শাকিলুর রহমান, আনোয়ার হোসেন রাজু, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাহিত্য প্রকাশনা সম্পাদক কামরান আহমদ, ছাত্রদল নেতা লোকমান হোসেন, এমসি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক বদরুল আজাদ রানা, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সুমন ২০১০ সালে মৎসজীবি ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচনে সহ সভাপতি পদে পরাজিত হন। সাধারণ সম্পাদক দিনার লেখাপড়া ছেড়ে প্রবাসে ছিলেন। সেখান থেকে ফিরে তিনি মুরগী ব্যবসায় সম্পৃক্ত হন। মহানগর সভাপতি এ্যাষ সিলেট কোর্টে মোহরী হিসেবে চাকুরী করছেন। সাধারণ সম্পাদক আহসান বিএনপির বড় এক নেতার ভাগ্নে। ২০০৩ সালে তিনি ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদলে যোগদান করেন। এরপরে তিনি প্রবাসে চলে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে তীর নামক জুয়া খেলা পরিচালনা করেন তিনি। সংগঠনের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে থাকা এ চারজনই অযোগ্য। গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছাত্রদল নেতারা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন। পাশাপাশি মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।