কামরান ভাই ভালো মানুষ : আরিফ

আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন কামরানের উপর আস্থা আছে বলে জানালেন বিএনপি বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী।

সোমবার (২৩ জুলাই) সকালে দৈনিক যুগান্তর আয়োজিত ‘কেমন মেয়র চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র প্রার্থীরা। বৈঠকে সাম্প্রতিক পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে ধানের শীষের প্রার্থী আরিফ বলেন, এই সিলেটে দীর্ঘ যুগের সম্প্রীতি রয়েছে। যেখানে সরকার প্রধান বলছেন, মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিতের কথা সেখানে প্রশাসনের অতিউৎসাহী কিছু কর্মকর্তা পরিবেশ ঘোলাটে করছে। তিনি বলেন, জানি কামরান ভাই ভালো মানুষ তিনি এগুলো করবেন না। যারা পরিবেশ ঘোলাটে করছে তারা কারা? আশা করি সরকারদলীয় প্রার্থী হিসেবে কামরান ভাই এ ব্যাপারে ভুমিকা রাখবেন।

তিনি কামরানের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেয়ার ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, দু’একদিন আগে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেয়া হয়েছে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা এর সাথে জড়িত তাদের শাস্তি দেন। আমাদের কেউ জড়িত থাকলে নাম ঠিকানা দিন আমরাই তাকে পুলিশে সোপর্দ করব। কিন্তু এই ঘটনাকে পুঁজি করে প্রতিটি নেতাকর্মীদের বাসা বাড়িতে তল্লাশী, গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে। নেতাকে না পেয়ে তার ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কে কেন কোথায় নিয়ে গেছে তাও বলছেনা। এতে মানুষের মধ্যে ভয় ভীতি সৃষ্টি হচ্ছে। সামনে জাতীয় নির্বাচনে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। আমরা এখন আশা করছি সরকার ও নির্বাচন কমিশন পূণ্যভূমির মর্যাদা রক্ষায় আরও দায়িত্বশীল হবেন। সম্প্রীতির সিলেটে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছি।

বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, হযরত শাহজালাল (রহ.), শাহপরান (রহ.) ও বঙ্গবীর ওসমানীর স্মৃতিসহ সিলেটের ইতিহাস-ঐতিহ্য আমরা এখনো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারিনি। আগামীতে আমরা যাদুঘর স্থাপনের মাধ্যমে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা করব।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের প্রত্যশার জবাবে তিনি বলেন, সোয়ারেজ ব্যবস্থা না থাকায় নগরীর পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সোয়ারেজ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এটা দীর্ঘ মেয়াদী কাজ। বাস্তবায়ন হলেই নগরীর পরিবেশ সুন্দর হবে। তিনি বলেন, সিলেটের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে, তাই এই শহরে একটা সাংস্কৃতিক একাডেমি খুবই প্রয়োজন। নির্বাচিত হলে জালালাবাদ পার্ক এলাকায় সাংস্কৃতিক একাডেমি করা হবে।

আরিফ বলেন, এই শহরকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ‘সেন্ট্রালাইজ’ করতে হবে। সব কিছু এক জায়গায় জমা করে রাখলে চলবে না। সদ্য সাবেক এই মেয়র বলেন, গণপরিবহনের জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এর জন্য জায়গা লাগবে। ১০-১৫টি গাড়ি হলে চলবে না, কমপক্ষে ১৫০ থেকে ২০০ গাড়ি লাগবে। এসব গণপরিবহন চলাচলের জন্য পৃথক লেনও করতে হবে রাস্তায়। নির্বাচিত হলে চালু করব।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মাস্টারপ্ল্যান সম্পর্কে আরিফ বলেন, দেশের প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বসার পর তারা জানালেন পূর্বের করা মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন যোগ্য নয়। তাই এটি রিভিউর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আরিফ বলেন, নগরীর বিশুদ্ধ পানি উত্তোলনের একটি সোর্স পাওয়া গেছে। বিমানবন্দর এলাকার চেঙেরখালে। ৫০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, ফুটপাত দখল মুক্ত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে এক সপ্তাহের ব্যাপার। এছাড়াও ১শ’ ৩৯ কিলোমিটার ফুটপাতের ডিজাইন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

যমুনা টেলিভিশনের সিলেট ব্যুরো চিফ ও দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার মাহবুবুর রহমান রিপনের পরিচালনায় মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান, সিপিবি-বাসদ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মো. আবু জাফর, স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী ও মহানগর জামায়াতের আমির এড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের।

মেয়র প্রার্থীরা ছাড়াও বক্তব্য রাখেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং নগর পরিকল্পনাবিদ ড. জহির বিন আলম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তাপস দাশ পুরকায়স্থ, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সিলেট’র সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সহকারী প্রক্টর অ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সহ সভাপতি শামসুল আলম সেলিম ও পরিবেশ কর্মী হাসান মুর্শেদ।

দৈনিক যুগান্তরের সিলেট ব্যুরো ইনচার্জ সংগ্রাম সিংহ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে গোলটেবিলের সমাপ্তি করেন।