কানাইঘাটে সালিশি বিচারে গিয়ে মুরব্বী খুন, ঘাতক গ্রেপ্তার

কানাইঘাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের সালিশি বিচারে গিয়ে এক পক্ষের ধারালো ছুরিকাঘাতে ফারুক আহমদ (৫৫) নামের এক মুরব্বী খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতক ফখরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯ টায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত ফারুক আহমদ কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির কালিনগর আগফৌদ গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর পুত্র।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একই গ্রামের মৃত জহির আলীর পুত্র ফখরুল ইসলাম তার বাড়ির পাশে মৃত মখবুল আলীর পুত্র সাহেদ আহমদ ও ভাউরবাগ ৪র্থ খন্ড গ্রামের ফরিদ আহমদ গংদের জমি দখল করে রাতের আধারে কলাগাছের চারা রোপণ করে জমি দখল করার চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সাহেদ আহমদ গংরা এলাকার মুরব্বী ফারুক আহমদ (৫৫) সহ কয়েক জন মুরব্বীকে নিয়ে ঘটনাস্থল দেখাতে ও জমির সীমানা নির্ধারণ করতে যান। এ সময় প্রতিপক্ষরা ফখরুল ইসলামের কাছে জমি দখলের কারণ জানতে চাইলে সে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বসত ঘর থেকে ধারালো দেশীয় ছোরা নিয়ে হাজী ফরিদ আহমদ ও সাহেদ গংদের উপর আক্রমণের চেষ্টা করে।

এ হামলা থামাতে মুরব্বী ফারুক আহমদ এগিয়ে আসলে তার উপর ঘাতক ফখরুল ইসলাম দেশীয় ছোরা দিয়ে গলার ডান দিকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুক আহমদকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে ঘাতক ফখরুল ইসলামকে স্থানীয় জনতা ধাওয়া করলে সে বাজারে ইউপি সদস্য আলিম উদ্দিনের হোটেলের দু’তলায় লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করলেও লোকজন তাকে দরজা বন্ধ করে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কানাইঘাট থানার এসআই স্বপন চন্দ্র সরকার ও পান্না লাল দে একদল পুলিশ নিয়ে ঘাতক ফখরুলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান।

এ মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ফারুক আহমদের আত্মীয় স্বজরা ঘাতক ফখরুলের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাড়ীতে গিয়ে দখলীয় জমির উপর লাগানো গাছপালা কেটে ফেলেন।

এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই আফতাব উদ্দিন জানান, ঘাতকের সাথে তাদের পূর্বের কোন বিরোধ নেই। তার ভাইকে সাহেদ গংরা বিচারের জন্য নিয়ে এলে ফখরুল ইসলাম তাঁর ভাইকে খুন করে। তারা ঘাতক ফখরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানিয়ে বলেন, ফখরুল এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী, তার কারণে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ।

কানাইঘাট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আহাদ জানান, ঘটনার সাথে সাথে ঘাতক ফখরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুলিশি তৎপরতায় সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে রয়েছে।