কানাইঘাটে পাওনা টাকার দায়ে যুবক খুন

হত্যা না আত্মহত্যা; এ নিয়ে এলাকায় ধুম্রজালের সৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী

কানাইঘাটে পাওনা আড়াইশ টাকার দায়ে আলমগীর হোসেন (১৯) নামের এক যুবক খুন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সে উপজেলার দিঘীরপাড় ইউপির পূর্ব রামপুর গ্রামের সাজিদ আলীর পুত্র। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানা পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকাল ৫টায় স্থানীয় সড়কের বাজারস্থ মাহবুব টেলিকম এন্ড সার্ভিসিং সেন্টারের স্বত্বাধিকারী জয়ফৌদ কাজিরগ্রামের ফারুক আহমদের ছেলে মাহবুবুর রহমান মাত্র ২৫০ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য ওই যুবককে আটক করে তার দোকানে নিয়ে যায়। এরপর মাহবুব ও তার সহযোগী ঠাকুরেরমাটি গ্রামের আব্দুল আহাদের পুত্র সিএনজি চালক কবির আহমদ সহ কয়েকজন মিলে আলমগীর হোসেনকে দোকানের সাটার বন্ধ করে বেধড়ক মারপিট করে মুখে বিষ দেয় এবং পরে আলমগীরকে সিএনজি করে তার বাড়ীর পাশে রাস্তায় ফেলে দেয় তারা।

পরে বাড়ীর পাশে রাস্তায় আলমগীর পড়ে থাকতে দেখে আত্মীয় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐ দিন রাত ২টার দিকে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

তবে তার মৃত্যুটি হত্যা না আত্মহত্যা; এ নিয়ে এলাকায় ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার অনেকের মতে আলমগীর মারপিটের অপমান সইতে না পেরে মুখে বিষ দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে। কিন্তু এর ভিন্ন মত প্রকাশ করে নিহতের আত্মীয় কলিম উদ্দিন জানান, এটা আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। মাহবুব ও তার সহযোগীরা পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আলমগীরকে একা পেয়ে জোর করে মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারের দোকানে নিয়ে সাটার লাগিয়ে দীর্ঘ ১ ঘন্টা বেধড়ক মারপিট করে মুখে বিষ ঢেলে কবির আহমদের সিএনজি করে রাত ৭টায় তার বাড়ির পাশের রাস্তায় ফেলে রেখে যায়।

পরে তারা খবর পেয়ে আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

উল্লেখ্য, আলমগীর হোসেন কিছুদিন আগে মাহবুবুর রহমানের দোকানে ২৫০ টাকা বাকীতে একটি মোবাইল সার্ভিসিং করান। সেই পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে অনেকে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে থানার ওসি (তদন্ত) মো. নুনু মিয়া জানান, খবর পেয়ে তিনি শনিবার ভোর ৫টার দিকে একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেন। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দোকানের মালিক মাহবুবুর রহমানের ভাই মুহিবুর রহমান ও তার পিতা ফারুক আহমদকে আটক করা হয়েছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।