কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের জন্য ১ ঘণ্টা আকাশে ঘুরলো মন্ত্রীসহ বিমান

নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত-আহতের ব্যাপারে জানতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালসহ সিভিল এভিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেপালের উদ্দেশে রওয়ানা দেন মঙ্গলবার বেলা ১১টায়।

এরপর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে কাঠমান্ডুতে অবতরণের কথা থাকলেও সেখানকার আকাশে অতিরিক্ত ১ ঘণ্টা বেশি ভেসে থেকে নামে বিমানটি।

বিমানটি নির্দিষ্ট সময়ে নামতে পারবে না বলে ফ্লাইট থেকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল। বিমানের সিটের সামনের মনিটরে জিপিএস রুটম্যাপে তখন বারবার তাকাচ্ছেন যাত্রীরা। ম্যাপে দেখাচ্ছিল ফ্লাইটটি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের আশপাশেই। কিন্তু এক ঘণ্টা ধরে একই স্থানে ঘুরছে বিমান।

ফ্লাইটটির বিজনেস ক্লাসে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামালসহ সিভিল এভিয়েশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ছিলেন প্রায় অর্ধশতাধিক বাংলাদেশি সাংবাদিকসহ শতাধিক যাত্রী।

তবে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে হঠাৎ একটি ঘোষণা আসে। বিমানের ক্যাপ্টেন বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, ভদ্র মহিলা ও মহোদয়গণ, আমরা ইতোমধ্যে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছি। তবে আমাদের এখনও ল্যান্ডিং টাইম (অবতরণের সময়) দেয়া হয়নি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অতিরিক্ত ফ্লাই করে বিমানবন্দরে ল্যান্ড করতে পারব। সোমবার ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি।’

বিমান দুর্ঘটনার পরের দিনের ফ্লাইটে এমন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা যায়। ওই ঘোষণার ১০ মিনিট পর আসে আরেকটি ঘোষণা। ক্যাপ্টেন বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, ভদ্র মহিলা ও মহোদয়গণ, আমরা ইতোমধ্যে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছি এবং ল্যান্ডিং টাইম পেয়েছি। আমাদের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে অবতরণের কথা থাকলেও অবতরণে সময় দেয়া হয়েছে দুপুর ১টা ৫০ মিনিট। আশা করছি ১টা ৫০ অথবা দুপুর ২টার মধ্যে আমরা নিরাপদে কাঠমান্ডুতে অবতরণ করব।’

অবশেষে নেপালের আকাশে এক ঘণ্টা ঘোরাঘুরির পর স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৭ মিনিট এবং বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে ত্রিভূবনে অবতরণ করে। দেড় ঘণ্টার ফ্লাইটটি নেপালে পৌঁছায় আড়াই ঘণ্টায়।

সুত্র : ইত্তেফাক