কস্তার দেয়া এক গোলের জয়ে টিকে থাকলো স্পেন

পর্তুগালের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও স্পেনকে ৩-৩ গোলের ড্র নিয়ে ছাড়তে হয়েছিল মাঠ। অন্যদিকে মরক্কোকে প্রথম ম্যাচে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে নেমেছিল ইরান। এশিয়ার দেশটির যেখানে ছিল শেষ ষোলোর পথে বড় ধাপ ফেলার সুযোগ, সেখানে স্পেনের জন্য ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন। কাজানের উত্তেজনাকর সেই দ্বৈরথে জয় হলো স্পেনেরই। কোস্তার লক্ষ্যভেদে ইরানকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের পথে থাকলো ‘লা রোহারা’।

‘বি’ গ্রুপে এখন পর্তুগাল ও স্পেনের দুই দলেই সমান ৪ পয়েন্ট, গোল ব্যবধানও সমান। তৃতীয় স্থানে থাকা ইরানের পয়েন্ট ৩।

কাজানে দুই দলই মাঠে নেমেছিল একই ছক কষে, ৪-১-৪-১। স্পেন ঠিক ছিল। আর ইরানের সেটি শুধু কাগজে-কলমেই। কার্লোস কুইরোজের পরিকল্পনায় যে শুধু অতিরক্ষণাত্মক কৌশল ছিল সেটি তো বোঝাই গেল। ইরানের রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব থাকলেন নয়জন! জার্সির রং লাল হওয়ায় ইরানের ডি-বক্স কখনো কখনো মনে হলো ‘লাল দুর্গ’! এই দুর্গ ভাঙলেন দিয়েগো কস্তা। কস্তার গোলটাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিল।

ম্যাচ ড্র করতে পারলে ইরানের পয়েন্ট হতো ৪, স্পেনের ২। ইরানের তখন দ্বিতীয় পর্বে যাওয়ার আশা অনেকটাই উজ্জ্বল হতো। বিপরীত দশা হতো স্পেনের। স্প্যানিশদের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক খেলে পারা যাবে না। আর ড্র করলেই যেখানে সমীকরণটা সহজ হয়ে যায়, ইরান স্বাভাবিকভাবেই বেছে নিয়েছে রক্ষণাত্মক কৌশল। তাতে কাজও হচ্ছিল। প্রথমার্ধে ভালোভাবে আটকে রাখা গেল স্পেনকে। স্পেন যত আক্রমণই রচনা করুক, সেগুলো কোনোটিই ইরানের রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি।

৫৪ মিনিটে ভাঙল ইরানের প্রাচীর। স্পেনের ক্রান্তিকালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ছোঁয়া না থাকলে যেন হয় না! আজও ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনালের নায়ককে লাগল। ইনিয়েস্তার পাসে কস্তার ফিনিশিং। অবশ্য স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ভাগ্যের ছোঁয়াও পেলেন। ১-০ গোলে এগিয়ে গেল স্পেন। এই অগ্রগামিতা তারা ধরে রাখল ম্যাচের শেষ পর্যন্ত।