এস.আই.ইউ শিক্ষার্থীদের ধর্মঘট স্থগিত, ক্লাসে ফেরার আহ্বান

পাঁচ দফা দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এস আই ইউ) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় হল রুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘোষণা দেন এস আই ইউ ছাত্র অধিকার আন্দোলনের মূখপাত্র ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর জিসান। এসময় তিনি আগামী ঈদুল ফিতরের পর সকল প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় হল রুমে চলমান ছাত্র আন্দোলন ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান শামীম আহমদ। তিনি শিক্ষার্থীদের সকল দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন।

শামীম আহমদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ২ একর জমি প্রদানে আমাদের পরিবারের সবাই সম্মতি দিয়েছেন। এ নিয়ে আমাদের পারিবারিক কোন বিরোধ নেই। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল বিষয়টি নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। তারা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে নানা গুজব ছড়াচ্ছে। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন আমি আগামী ২৫ জুনের মধ্যে ২ একর জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দিব।

তিনি আরো বলেন দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার কারণে আমার বোন ব্যক্তিগত সমস্যায় দেশে আসতে পারছেন না। তবে তিনি এবার দেশে আসার আগ্রহ দেখিয়েছেন। আশা করি তিনি শীঘ্রই দেশে চলে আসবেন।

এ ব্যাপারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মূখপাত্র ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর জিসান বলেন, পাঁচ দফা দাবিতে আমাদের চলমান আন্দোলন আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। ২৫ জুনের পর মিডটার্ম (মিড সেমিস্টার) পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এবং ঈদুল ফিতরের পর সকল প্রোগ্রামের যথারীতি ক্লাস চালু থাকবে। তবে ক্লাস চালু থাকলেও ২৫ জুনের পূর্বে শিক্ষার্থীদের সকল ধরণের ফী প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ২৫ জুনের মধ্যে যদি জমি প্রদান পক্রিয়া সম্পূর্ণ না হয় তাহলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে দাবি আদায়ে আরো কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, রাষ্ট্রপতি মনোনীত ভিসি, প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ নিয়োগসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত কয়েকদিন থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। বন্ধ রয়েছে পাঠদান ও ক্লাস পরীক্ষা। এদিকে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে গত ৩০ মে মিডটার্ম (মিড সেমিস্টার) পরীক্ষা স্প্রিং ২০১৮ অনিবার্য কারণ দেখিয়ে স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, গত ২২ মে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের অবস্থা বর্ণনা করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সেখানে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেউ অনুমোদনবিহীন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাস বা অননুমোদিত কোনো প্রোগ্রামে কোর্সে ভর্তি হলে তার দায়-দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি নেবে না। এরপর থেকে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।