এসএসসি, দাখিল পরীক্ষার ফলাফল ২০১৮ : একটি ব্যক্তিগত নিবেদন

ম. আব্দুস সামাদ (লেখক)

এসএসসি পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হওনি তাদেরকে ধন্যবাদ দশটি বছর জ্ঞান সাধনা করে সার্টিফিকেট অর্জন করার প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করার জন্য। মনে রেখো দশবছরের পরিশ্রম আর সাধনা একটি সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় কেবল। তোমরা অনেককিছু অর্জন করেছ, শিখেছ, জেনেছ এতগুলো বছরের স্কুল জীবনে। প্রিয় স্কুল আঙ্গিনায় আরেকটা বছর থাকতে পারাটাও মন্দ নয় বৈকি!

যারা সার্টিফিকেট অর্জন করেছ তাদেরকে অভিনন্দন। তোমাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। তোমাদের অধ্যবসায় আর পরিকল্পনা জয়ী হয়েছে।

অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নিশ্চয় তাদের সার্টিফিকেট অর্জন না করতে পারার কারণ বিশ্লেষণ করবে। কারণগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানের জন্য যত্নবান হবে। জীবনের এই অভিজ্ঞতাটিকে একটা শিক্ষা হিসেবে ধরে নিয়ে তার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সচেষ্ট হবে।

উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা জীবনের অনেকবড় একটা সিদ্ধান্ত নেবে এখন। তারা সাধারণ শিক্ষা নাকি কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা পদ্ধতিতে শামিল হবে সেই সিদ্ধান্ত নেবে এখন।

আমরা ভুলেই যাই যে, আমাদের একটা কারিগরি শিক্ষাবোর্ড আছে। বিভিন্নধরণের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা পদ্ধতি আমাদের দেশে বিদ্যমান। এই কারিগরি ট্রেডগুলো শিখলে চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় না। নিজেই উদ্যোক্তা হওয়া যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহজেই কর্মের সংস্থান করা যায়। মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে ভালো অর্থ আয় করা যায়। পরবর্তী সিদ্ধান্তে এই বিষয়টা বিবেচনার আবেদন রইলো।

যারা বিজ্ঞান, মানবিক বা ব্যবসা শাখায় পড়েছ তারা এখন আবার নিজের পড়াশুনার শাখাটি নিয়ে দ্বিতীয়বার চিন্তা করো। যদি অধ্যয়নকৃত শাখাটিতে আনন্দ না পেয়ে থাকো তাহলে পরিবর্তন করতে পারো উচ্চমাধ্যমিকে। তাছাড়া কোন বিষয়টি নিয়ে তুমি উচ্চশিক্ষা নিতে চাও সে বিষয়টি মাথায় রেখে বিভাগ ঠিক করো এখন।

বৃহত্তর পরিসরে মহাবিদ্যালয়ে তোমাদেরকে স্বাগতম। কারিগরি আর বৃত্তিমূলক শিক্ষায় যারা যাবে তাদের প্রতি আমার বাড়তি পক্ষপাত রইলো।

পিতামাতা আর অভিভাবকদের শাসন কমে যাওয়ার এই মহেন্দক্ষনকে একটা বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে দেখবে আশাকরি। এখন থেকে নিজেকে শাসনের ভার অনেকটাই নিজের উপরে। মাদক থেকে নিজেকে দূরে রাখবে। এটার ছড়াছড়ি এখন চারদিকে। ভয়াবহ এই জিনিষটার প্রতি আসক্তি তোমার জীবনকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আসক্তি যেনো বাড়াবাড়ি পর্যায়ে না হয়। মনে রাখবে জীবন গঠনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এগুলো যেনো তোমাকে মূল কাজ পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।

একটা নীতিতে অটল থাকবে যেনো তোমার কোনো কাজ অন্যের ক্ষতি বা মনোপীড়ার কারণ না হয়। কোনো কাজ করতে গিয়ে যদি দেখ সেটা গোপন করে বা অস্বস্তি নিয়ে করতে হচ্ছে তাহলে সেটা করবেনা কারণ সেটা আসলে করার কথা না তাই গোপন রাখতে হচ্ছে। পরোপকার মাথায় রাখবে আর সহনশীল হবে।

আমি জানি আমার পাঁচহাজার বন্ধুর মধ্যে দু’চারজন মাত্র এসএসসি শিক্ষার্থী আছ। এরপরেও এই বড় লেখাটি লিখলাম কারণ আমি জানি অনেক অভিভাবক আছেন আমার বন্ধু তালিকায়।

প্রিয় অভিভাবক, ওদেরকে একটু পড়তে দেবেন প্লীজ।

  • লেখক : ম. আব্দুস সামাদ, স্বাক্ষরতা বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ। ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের শিক্ষা কর্মসূচীর প্রধান হিসেবে লাইবেরিয়ায় কর্মরত।
    samadsust22@gmail.com