এমবাপেকে রুখে দেয়ার প্রত্যয় উরুগুয়ের

বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে আজ (শুক্রবার) ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে। নিশ্চিতভাবেই উরুগুয়ের মূল লক্ষ্য হবে যেকোনো উপায়ে ফ্রান্সের তরুণ সেনসেশন কাইলিয়ান এমবাপেকে রুখে দেয়া। এমন কথাই জানিয়েছেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। দলের এ্যাটাকিং মিডফিল্ডার দিয়েগো লাক্সলাটও জানিয়েছেন, এমবাপেকে আটকে দেবে উরুগুয়ের শক্তিশালী রক্ষণভাগ।

অনেকটা এমবাপের কারণেই ওস্কার তাবারেজের উরুগুয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সকেই ফেবারিট মানা হচ্ছে। যদিও ফ্রান্সের বিপক্ষে উরুগুয়ের অতীত বেশ ভালো। শেষ আটবারের মোকাবেলায় ফ্রান্সের কাছে উরুগুয়ে হেরেছে মাত্র একটি ম্যাচে। অন্যদিকে বিশ্বকাপের হিসেবে এগিয়ে ফ্রান্স। দক্ষিণ আমেরিকান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নয়টি ম্যাচে অপরাজিত আছে ফরাসিরা। এর মধ্যে সাতটি ম্যাচে কোন গোল হজম করেনি। রাশিয়া বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৪-৩ গোলের দুর্দান্ত জয়ের পর আরো উজ্জীবিত ফরাসিরা। অন্যদিকে, রোনালদোদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করা উরুগুয়েও দারুণ আত্মবিশ্বাসী।

নিজনি নোভগ্রাদে দক্ষিণ আমেরিকান দলটির অনুশীলন ক্যাম্পে গণমাধ্যমের সামনে সুয়ারেজ বলেছেন, ফ্রান্সকে আটকানোর জন্য দলের রক্ষণভাগের ওপর তার আস্থা আছে। এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে উরুগুয়ে। বার্সেলোনার এই স্ট্রাইকার বলেন, সবাই জানে এমবাপে একজন ভাল খেলোয়াড়। কিন্তু আমি মনে করি তাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমাদের দুর্দান্ত একটি রক্ষণভাগ আছে।

ফ্রান্সের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১৯ বছর বয়সী এমবাপে ছিলেন জয়ের নায়ক। ম্যাচে দুই গোল করেন প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইর এই তরুণ তারকা। তার গতি ও দক্ষতার কারণে আদায় করা পেনাল্টি থেকে ফ্রান্স ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে গিয়েছিল।

অবশ্য সুয়ারেজ বলেছেন, শুধুমাত্র এমবাপে নন, ফ্রান্সের পক্ষ থেকে তাদের জন্য আরো হুমকি অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে এন্টোনিও গ্রিজম্যানের বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

উরুগুয়ের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড এডিনসন কাভানির ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। পর্তুগালের বিপক্ষে তিনি পেশীর ইনজুরিতে পড়েছিলেন। ম্যাচটিতে জোড়া গোল করার পর মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

টানা সাত ম্যাচে জয়ের অভিজ্ঞতাই সুয়ারেজ-কাভানিদের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছে। ম্যাচগুলোতে মাত্র এক গোল হজম করেছে উরুগুয়ে। আর সে কারণেই দলের মিডফিল্ডার লাক্সলাট মনে করেন, ফ্রান্সের বিপক্ষেও সেই ডিফেন্সিভ দৃঢ়তা দল বজায় রাখবে। তিনি বলেন, রক্ষণভাগের পাশাপাশি আমরা আক্রমণভাগেও নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করবো। পর্তুগালের বিপক্ষে আমরা যেভাবে শুরু করেছিলাম, সেটাই এখানে করে দেখাবো। অবশ্যই এমবাপেকে যতটা সম্ভব কম জায়গা দেয়ার লক্ষ্য থাকবে।

ফ্রেঞ্চ মিডফিল্ডার ব্লেইস মাতৌদির মতে, উরুগুয়েকে হালকা করে দেখার কোন কারণ নেই। হলুদ কার্ডের কারণে শুক্রবারের ম্যাচে খেলতে পারবেন না মাতৌদি। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, অনেকদিন ধরেই আমি কাভানিকে চিনি। সে এমন একজন খেলোয়াড়, যে সহজে হার মানার নয়। মাঠে নামার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সে নিজের শক্তি কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।

মাতৌদি বলেন, অবশ্যই কাভানিকে ছাড়া উরুগুয়ের শক্তি একই থাকবে না। আমরা সবাই তার দক্ষতা সম্পর্কে জানি। বিশ্বকাপেও সে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছে। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না, দলের অন্যরাও ভাল।

২০১০ সালের পর বিশ্বকাপে এটাই কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের প্রথম ম্যাচ। আর ফ্রান্স গত পাঁচটি আসরের চারটিতেই শেষ আটে খেলেছে। শুধুমাত্র ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল ফরাসিরা।