‘এতো বিশাল আয়োজনে সবার প্রতি খেয়াল রাখা সম্ভব নয়’

আমন্ত্রণ পত্র, একাধিকবার ফোন করে আমন্ত্রণ জানানোর পরেও ইফতার অনুষ্ঠানে স্থান দিতে পারেনি সিলেট চেম্বার অব কমার্স। ইফতার না করেই বেরিয়ে আসেন ইমজা’র সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী।

রোববার (২০ মে) সিলেটের একটি অভিজাত কনভেনশন হলে বার্ষিক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে সিলেটে ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ। এতে অংশ নিতে সিলেটের গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সাথে সংবাদকর্মীদেরও আমন্ত্রণ করা হয়। অফিসের ঠিকানায় পাঠানো হয় আমন্ত্রণ পত্র। আমন্ত্রণ পত্র পাঠানোর পরও অনেককেই আলাদাভাবে একাধিকবার ফোন করেও উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় চেম্বারের পক্ষ থেকে, কিন্তু তবুও ইফতার অনুষ্ঠানে যথা সময়ে উপস্থিত হয়ে ইফতার করতে পারেন নি অনেকে। যারা আসন পাননি তাদেরকে আলাদা প্যাকেটে ইফতার সামগ্রী দেয়া হলেও আমন্ত্রিত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে আসন দেয়া দুরের কথা পানি পর্যন্ত দেয়া হয় নি।

এসময় চেম্বার কর্তৃপক্ষের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা ব্যস্ত ছিলেন ইফতার পূর্ববর্তী আলোচনা ও খোশগল্পে; ছিলো না কোনো স্বেচ্ছাসেবক। ইফতার মাহফিল থেকে ইফতার না করেই থেকে ফিরে আসতে হয় ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দেবু, চ্যানেল টুয়েন্টিফোর সিলেট ব্যুরো প্রধান গুলজার আহমদ, যুগান্তর প্রতিনিধি ইয়াহিয়া মারুফ, সিলেট টুডে প্রতিনিধি দেবকল্যাণ ধর, শুভ ধর, ডেইলি স্টার প্রতিনিধি দ্বোহা চৌধুরী, দৈনিক যুগভেরীর স্টাফ রিপোর্টার জাহিদুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যকে।

এ ব্যাপারে চেম্বার সভাপতি খন্দকার শিপার আহমেদের কাছে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতো বিশাল আয়োজন সবার প্রতি খেয়াল রাখা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া কেউ যদি অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের পরে আসেন তবেতো এমন হতেই পারে। সাংবাদিকদের জন্য দুটি টেবিল বরাদ্দ ছিলো বলে জানান তিনি। তবে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ফিরে আসা সাংবাদিকদের মধ্যে ইমজার সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দেবু ছাড়া অন্যদের তিনি চেনেন না বলেও উল্লেখ করেন চেম্বার সভাপতি। তবে তিনি এ ব্যাপারে ইমজা’র সাধারণ সম্পাদকের সাথে ব্যাক্তিগতভাবে কথা বলে নেবেন বলে জানান খন্দকার শিপার।

এ বিষয়ে চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের সিলেট ব্যুরো প্রধান গুলজার আহমদ ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, অব্যবস্থাপনার এমন চিত্র দেখে সিলেট চেম্বারের এক নেতার সাথে কথা বলি, কিন্তু তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে অন্যদিকে চলে যান। আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর পরও একাধিকবার ফোনে দাওয়াত দেবার পর এমন ব্যবহার সত্যিই দুঃখজনক। এরপর আমিসহ আরো কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ইফতার অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় কুড়ি মিনিট আগে গিয়েও এমন ব্যবহার পেয়ে কিছুটা বিব্রত ইমজা’র সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দেবু। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, বার বার কল করে দাওয়াত দেয়ায় গিয়েছিলাম, কিন্তু আশানুরুপ আতিথেয়তা দেখাতে পারেনি চেম্বার কর্তৃপক্ষ, তাই ইফতারের আগেই ফিরে আসতে হলো।