একটু ক্ষোভ, একটা পরামর্শ এবং একটা প্রেডিকশন…

রেদওয়ান আহমেদ

কোটা সংস্কারসহ ৫ দফা দাবিতে দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো উত্তাল। সেই সাথে উত্তাল সারা দেশ, দেশের রাজনীতি। আর সাধারণ মানুষও নিয়েছে কোটা পদ্ধতির পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান। এ নিয়ে হচ্ছে রাজনীতি, হচ্ছে জ্বালাও-পোড়াও। মাঠের আন্দোলনের জবাব হচ্ছে বুলেট-কাঁদানে গ্যাসে। কোটা সংস্কারের দাবি আদায়কারীদের দ্বারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধারাও হচ্ছেন আক্রমণের শিকার। সবশেষে সরকারি চাকরিতে কোনো কোটাই থাকবে না বলে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা। সব মিলিয়ে লিখেছেন- রেদওয়ান আহমেদ 

প্রথমত : 
মেধাবীরা (!) এইবার ক্ষান্ত দেন আপনাদের আল্লা-খোদা-ভগবানের উছিলায়। যে দাবীতে আন্দোলন ছিলো তা অবশ্যই অবশ্যই যৌক্তিক। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি এতো ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০%, সেটারও সংস্কার চান বুঝলাম কিন্তু অসম্মান আর হেয় মন্তব্য করার স্পর্ধা কি করে হয়?

মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য পুরোটা শুনছেন? উনার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ‘আমি রাজাকার’ লিখতে ও বলতে নূন্যতম লজ্জা হয় না আপনাদের? ধিক্কার! জামায়াতের আর মাঠে নামতে হয় না আজকাল। তথাকথিত মেধাবীরা আজকাল নিজেরে স্বাচ্ছ্যন্দে রাজাকার ডাকেন। ধিক্কার আপনাদের মেধায়!

দ্বিতীয়ত :
মহান সংসদে সাংসদবর্গের দেয়া বক্তব্যের প্রতিটি শব্দই রেকর্ডেড। তা বাদ দিতে হলে বা পরিবর্তন করতে হলে স্পিকার বরাবর আবেদন করতে হয় সংসদেই। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দেয়ার পর এ বক্তব্যের আইনি বৈধতা খুঁজতে চাওয়া মেধাবীদের বুঝি এটুকু কাণ্ডজ্ঞানও নেই! আশ্চর্য!! সংসদে দাঁড়িয়ে সংসদ নেতা যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে বিশ্বাস রাখুন। বক্তব্য যদি পরিবর্তন করা হয় বা বাদ দেয়ার চেষ্টা করা হয় তাও আপনারা জানতে পারবেন।

তৃতীয়ত :
একটা অনুমানের কথা বলি, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন কোন কোটাই থাকবে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ হবে। শেখ হাসিনা তখন ভেবেচিন্তে পর্যালোচনা করে ‘কোটা সংস্কার’ করবেন, বাতিল নয়। আপনারা ভাবতে থাকবেন আপনাদের কথামতোই সব হয়েছে এবং একসময় আবিষ্কার করবেন প্রাপ্তি আপনার না, ভোটের রাজনীতির।

  • লেখক : সভাপতি, সিলেট ডিবেট ফেডারেশন।