একটি সড়ক দুর্ঘটনা এবং বেঁচে আসা

রোপন রুপু (লেখক)

সড়ক দুর্ঘটনা সেটা নতুন কিছু নয়। তবে এর আগে নিজে পড়িনি। এইবারের ঢাকা থেকে ফিরে আসা জীবন নিয়ে হয়তো জীবন ফিরে পাওয়া নতুবা হতে পারতো আরেকটা মৃত্যুর খবর। আপনাদের ভালোবাসায় বেঁচে এসেছি এই যাত্রায়। এগারো দিন পর মাকে বলতে পেরেছি। এখন আর বলতে সমস্যা নেই। এতো মিথ্যা কথা বারবার মা, বাপ্পী, মিথির সাথে জীবনেও বলিনি তার জন্য নিজেকে বেশ অপরাধী মনে হচ্ছিলো।

জীবনের প্রয়োজনে মানুষের এদিক ওদিক ছুটোছুটি করে একটা ভালো জীবনের আশায়। জীবনযাত্রার তাগিদে প্রয়োজন হয় চাকুরীর। তেমনি একটি দিন ছিলো এই বিগত ২১/০৪/২০১৮। একটি চাকুরী, একটি পরিবার, একটি আশা সবকিছু মিলিয়ে ইন্টারভিউ দিতে যথারীতি ১৯/০৪/২০১৮ যাত্রা করি সিলেট থেকে সন্ধ্যা ৬ টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ও রাত ২ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে যাই। পরেরদিন ছিলো শুক্রবার একটি সরকারি চাকুরীর পরীক্ষা দিলাম। বিকালে বন্ধু মাসুমের সাথে আরো দুই বন্ধু ছিলো আড্ডা মারি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, বিজনেস ডিপার্টমেন্ট ও টিএসসি তে। তারপর হলে ফিরি রাতের খাবার খাই ছোট ভাইকে নিয়ে। তারপর ঘুমিয়ে পড়ি।

পরদিন সকালে ছিলো একটি বেসরকারী কোম্পানিতে চাকুরীর ইন্টারভিউ। যেতে হবে গুলশান ২ এ। তাই সকালে উঠে রেডি হয়ে চলে যাই ৯:৩০ মিনিটে। যথাসময়ে চলে যাওয়ায় মনে একটু শান্তি। তারপর এক ঘন্টা সময় চলে গেলো। অনেকেই আসছেন বিভিন্ন জেলা থেকে, তেমনি সিলেট থেকেও ছিলেন অনেকেই। তারপর ইন্টারভিউ দিলাম, খুব ভালো হলো। মন মেজাজ ভালো নিয়ে অফিস থেকে নিচে নামলাম। এরপর একটু হালকা নাশতা করে চিন্তা করলাম তাড়াতাড়ি হলে যাবো কিভাবে। তখন দিলাম পাঁঠাও কল।

একটু পরেই চলে এলেন মাঝবয়সী একজন রাইডার বয়স আনুমানিক ৩৫-৩৮ এসে আমাকে বললেন প্রথমেই আপনার কি খুব তাড়াতাড়ি যাওয়া দরকার যদি হয় তাহলে আমি যেতে পারবোনা। আমি না বলায় বাইকে উঠে গেলাম। খুব ভালোভাবেই লোকটি বাইক চালালেন। চলে এলাম মহাখালী ফ্লাইওভার এর নিচের সিগনাল এ। ট্রাফিক সিগনাল দেওয়ায় আমরাই প্রথম রাস্তার একদম বাম পাশে অপেক্ষা করছি। প্রথমে একদম ডান দিকে একটি মাইক্রো, তারপর একটি বাস আসলো আর ডান দিকে খুব একটা জায়গা নেই। হঠাৎ করে পিছন দিকে দেওয়ান নামের একটি বাস এসে ধাক্কা দিলো আমাদের বাইকে। কিছু বুঝে উঠার আগেই পড়ে গেলাম মাটিতে। ডান হাতে খুব প্রেশার পড়লো। কিছু বুঝলাম না। ডান হাতটা দিয়ে মোবাইল ফোনটা তুলতে গিয়ে দেখি হাত কাজ করছে না। শার্টের উপরে বাম হাত দিয়ে ডান হাতে হাত দিয়ে দেখি হাতের জয়েন্ট ডিসপ্লেস হয়ে গেছে। রাইডার পায়ে ব্যাথা পেয়েছেন আর বাইকের ও কিছু ভাঙছে। সাথে সাথে মনে হয়ে গেলো রাজিব এর কথা, সাথে সাথে বাড়িতে অসুস্থ মা, বাপ্পী, মেঝ, ছোট ভাইজান আর মিথিলা এর কথা। বাস থেকে যাত্রীদের শব্দ এ কি করলে ড্রাইভার। অনেকে গালি দিচ্ছে অনেকে মার শুরু করছে। ড্রাইভার এখনো গাড়িতে। নামতেই চাইছে না। আমার ব্যাগ, মোবাইল দিয়ে দিলাম আমার বাইক রাইডারের কাছে। দিয়ে বাম হাত দিয়ে গাড়ির ভিতর থেকে চাবি আনলাম। সাথে সাথে এক লোক এগিয়ে আসলেন আর এক ট্রাফিক পুলিশ বললেন আমরা সব দেখেছি। তারপর ঐ লোকটা পাগল হয়ে গেছে কি করবে কি না। আমাকে ধরে ধরে নিয়ে গেলো নিয়ে বসালো, আমাকে ফ্যান ছেড়ে দিলো আর বাস ড্রাইভারকে নিয়ে থাপ্পড় দিয়ে বসালো। অনেক সহযোগিতা করলেন আমাকে।

তারপর ট্রাফিক পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে চাবি দেই আর মেঝ ভাইজানকে ফোন দেই জানাই এক্সিডেন্টের খবর। এর মাঝে শুরু হয় ব্যথা। আমার জীবনে এতো ব্যথা কোনদিনও পাইনি। আসলো বনানী থানা, এসে জিজ্ঞাসা করার পর বললেন আপনার বাস নিয়ে কোন চিন্তা করতে হবে না আপনি এখন ট্রিটমেন্ট এ যেতে পারেন। আর উনার ফোন নাম্বার দিলেন। কই যাই ব্যথা মারাত্মক আকারে বাড়ছে। সবাই বলছেন আপনি পঙ্গু হাসপাতালে যান, তারপর একটা সিএনজি ডেকে দেন এক ট্রাফিক পুলিশ। এইখানে বসে বসেই বন্ধু মাসুমকে ফোন দেই বার বার রিসিভ করেনি। রওয়ানা দেই, সাথে আমার রাইডার। ভদ্রলোক বার বার বলতেছে খুব কষ্ট হচ্ছে আপনার। এইতো এসে গেছি আর বেশি দূর না।

মিনিট ৩০ এক পরে গিয়ে গাড়ীর ভিতর থেকে দেখতে পেলাম মেঝ, আর ছোট ভাইজানকে। কি শান্তি লাগছিলো বুঝানোর মতো না। তারা আমাকে দেখতে পেয়ে পাগল হয়ে গেছে। গাড়ীর সামনাসামনি পাগলের মতো দৌঁড়ানো শুরু করলো। গাড়ী গিয়ে থামলো জরুরী বিভাগের সামনে। ডানদিকে হাত বের করতেই ছোট ভাইজানের চোখের কোনে জল দেখে নিজের ভেতর আরো খারাপ লাগলো ঠিক ততোক্ষনে মেঝ ভাইজান জরুরী বিভাগের দিকে হাতের ব্যাথা এতো ছিলো হাত সোজা করতে পারছিলাম না। এক হাত পুরোটা ভর ছিলো ছোট ভাইজানের হাতে। সাথে আমার বাইক রাইডার। টিকেট কেটে ডাক্তারের রুমে ঢুকতেই শোনলাম এইখানে সবাই ইমার্জেন্সি। দুজন ডাক্তার ছিলেন, একজন বললেন কাগজ কই বলে নিয়ে আসেন। আরেকজন বললেন বাইরে শুয়ে পড়েন। বাইরে গিয়ে ব্যথায় আর শুইতে পারলাম না। এরকম মিনিট পাঁচেক পরে টিকিট নিয়ে মেঝ ভাইজান আসলো। এরপর আবার ভিতরে গেলাম। ডা. বললেন আপনারা এতো অস্থির হচ্ছেন কেন? এইটা কোন ব্যাপার না। একটা এক্স-রে লাগবে। ছোট ভাইজানের হাতে ভর করে গেলাম এক্স-রে রুমের দিকে। হাঁটি কিন্তু রুম পাই না। একসময় পেলাম। শুরু হয়ে গেলো অপেক্ষা। এরপর দেখি দুই একজন চলে যাচ্ছে। রিকুয়েস্ট করলো মেঝ ভাইজান, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। হাতে কিছু ধরিয়ে দিতে একটু পরেই আমাকে এক্স-রে বোর্ড এ নিলো আর শেষ হলো এই কাজ। এক্স-রে ফিল্ম হাতে নিয়ে আবার হাঁটা।

ব্যথা বেড়েই চলছে। আবারো ফিরে এলাম জরুরী বিভাগের ডাক্তারের কাছে। তিনি ফিল্ম দেখে বললেন আমাকে একটু সহ্য করলে এটা এখানেই ঠিক হয়ে যাবে। তিনি চেষ্টাও করলেন কিন্তু আমি আর পারলাম না সহ্য করতে। বললেন এখন এটা আর এইভাবে করা যাবে না, এটা এনেস্থেসিয়া দিয়ে অপারেশন রুমে গিয়ে ঠিক করতে হবে। লিখে দিলেন।

আবার শুরু আরেক অধ্যায়। ব্যাথা যেভাবে বাড়ছে সহ্য করা আর যাচ্ছে না। দূর থেকে দেখছি আবারো ফর্ম তুলে সাইন দিলো মেঝ ভাইজান। আমার সাথে তখনও হাতে ধরা ছোট ভাইজান বলছে সব ঠিক হয়ে যাবে দাদামনি। পাশে বসা আমার বাইক রাইডার ও। এর একটু পরেই এক হাসপাতালের এক মাসি এলেন ফাইল নিয়ে বললেন ওটির দিকে যেতে। আবারো হাঁটা শুরু আর ব্যথার কথা বলার মতো কিছু নেই। এরপর অনেক কষ্ট করে ওটি রুমের সামনে গেলাম। তারপর মাসিও বললেন কিছু দেন আমি ফাইলটা ভিতরে দিয়ে আসছি অপেক্ষা করতে হবে, যাই হোক এইখানে উনাকেও খুশি করা হলো। ওটি রুমের ভিতর যাই নি কিন্তু বাইরে যে পরিমাণ রোগী অপারেশন এর জন্য বসা মনে হলো যেন হাত, পা, হাঁড় ভাঙার এক কারখানা। তখন নিজেকে নিছক এক সামান্য রোগী মনে হলো। এখানে প্রায় ১ থেকে দেড় মিনিট অপেক্ষা। ছোট ভাইজান হাতে ধরে রেখেছে, হাত ঘুরাতেই পারছি না। একটু পরেই বনানী থানা থেকে ফোন। মেঝ ভাইজানকে জিজ্ঞেস করলো বাসের কোন লোক আসছে কিনা। এর একটু আগেই একজন লোক আসছিলো। এসে দেখেই অবাক, ভালো আঘাত পাইছেন। ও আচ্ছা আমার বাসা পাশেই। যে বাসটি এসে ধাক্কা মারছে এই বাসেই ছিলাম আমি। এতো খেয়াল করিনি লোকটার কথা। এরই মধ্যে চলে এলো ছোট ভাইজানের বন্ধু শিহাব সহ আরো ৩/৪ জন। অবস্থা দেখে সটকে পড়লো সেই লোকটি পরে বুঝতে পারলাম এই শালা বাসের লোক ছিলো।

অপেক্ষার এক প্রান্তে একজন ডাক্তার এসে একটা পেইন কিলার ইনজেকশন দিয়ে দিলেন। এর কিছুক্ষণ পর আসলেন ওটি দাদু। জিজ্ঞেস করলেন কখন খাইছেন। আমি বলছি হ্যাঁ, দুপুরে কলা আর বিস্কুট। উনার উত্তর, এইটা কি খানি না, তাহলে এনেস্থেসিয়া হবে না, এমনিতেই করতে হবে। তখন আমি যাওয়ার জন্য রেডি, দাদু নিতেই নারাজ। আবারো দেশীয় নিয়ম রীতি মেনে দেওয়া হলো। উনি এই ১০০/২০০ টাকা হাতে নিতে অভ্যস্ত নয়, তারপর আরো একটু বাড়িয়ে দিতে দাদু নিয়ে গেলেন ওটি রুমে। ওখানে আবার ভেতরে ঢোকবার পর আমাকে অপারেশন থিয়েটার এর ঠিক সামনে একটা টোলে বসান। ভেতর দেখছি, অপারেশন চলছ্‌ একটা বাচ্চা মেয়ে খুব চিৎকার করছে। আর আমি যেখানে বসা সেখানে দাদু একজন কেউ খাবার দিতে এলে, ঔষধ দিতে এলে খুব ভাব দেখিয়ে পকেটটা ভারি করছেন। আমি তখনো ব্যথায় কাতরাচ্ছি। এর কিছু পর দাদু এসে বললেন আসেন, গেলাম। তখন শুরু আমার আরেক অধ্যায়।

ওটি বোর্ডে তোলা হলো আমাকে। আর হাত, পা সবকিছু বেঁধে ফেলা হলো। ডাক্তার বললেন, আপনার একটু কষ্ট হবে, সহ্য করতে হবে। আর এ ছাড়া উপায় নেই। মা এর মুখটা ভেসে আসলো চোখে। তারপর দাদু বুকে পাম্প করা শুরু করলেন, একজন বুকের পাশে ম্যাসাজ করলেন। আর দুজন ডাক্তার এসেই হাতে মোচড় দিয়ে আমার মাথার সামনে দিয়ে হাত নিয়ে গেলেন। কনুইটা ঘুরে গেলো আর এরপর হাতের সোল্ডার জয়েন্ট ঘুরানো দিয়ে জায়গায় এনে বসালেন। তখন দুনিয়া আমার কাছে কিছুই মনে হয়নি। এতো ব্যাথা যা কোন শত্রু ও যেন না পায়। এরপর হাত ঠিক জায়গায় বসতেই হাতটা গলার সাথে বেঁধে দিলেন ডাক্তার। দুই মিনিট পরেই ব্যথা ৮০ ভাগ কমে গেলো। আর ডাক্তার বললেন- ২১ দিন রাখেন। আর এই হাত দিয়ে ভারি কাজ করবেন না কখনো। এর পরে বাইরে এলাম এসে দেখি বন্ধু মাসুম আর মেঝ ভাইজানের ফ্রেন্ড আফিউর এসে গেছে আর এই দিকে ঝড় শুরু হইছে।

একটু পরেই পেসক্রিপশন নিয়ে আসলো মেঝ ভাইজান। এরপর বন্ধু মাসুম আর মেঝ ভাইজানকে বললাম থানায় যাওয়ার জন্য। ওরা চলে গেলো থানাতে, ছোট ভাইজানকে নিয়ে আমি চলে এলাম আফিউরের বাসায়। সন্ধ্যার পর মেঝ ভাইজান এসে জানালো- গিয়ে দেখি কেউ কিছু বলতে পারছে না। যা বুঝলাম থানা ম্যানেজড। এরপর ফোন দিলো পরিচিত এক সার্জেন্টকে। পরে নাম শুনেই বুজলাম আমাদের পরিচিত এক সহযোদ্ধা। তিনি গিয়ে সব খুঁজে বের করলেন আর এইখানে কথা অনেক হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে বাড়ীতে জানানো যাবে না নতুবা অনেক কিছু করা যেতো এই আর মামলার দিকে না গিয়ে কিছু ঔষধ এর খরচ দিয়ে দিলো। আর কি করার। এইভাবে ৫ দিন গেলো। হঠাৎ মনে হলো বন্ধু সাইফুলের কথা। ফোন দিলাম, জানালাম খবর, শুনে অবাক। বললাম আবার কাল ডাক্তার দেখাবো সে সাথে সাথে বলে উঠলো চিন্তা করিস না আমার এক বোন জামাই আছে আমি কথা বলে সকালে হাসপাতাল চলে আসবো। আরো একটু শান্তি লাগলো। এরপর চলে এলো বাসায়। ছোট ভাইজান আর ছোটভাই সজল। পরদিন সকালে বের হয়ে গাড়ি পাই না। পরে একটা পেলাম, সাথে সজল। হাসপাতাল গিয়ে দেখা হলো সাইফুলের বোন জামাই লিটন ভাইয়ের সাথে। তিনি সবকিছু ব্যবস্থা করে দিলেন। আবার এক্স-রে করলাম। ডাক্তার বললেন কোন সমস্যা না। এই ঔষধ খান আর ২১ দিন পর এটা খুলে ফেলেন। চলে এলাম আবার হলে। এর দুইদিন পর ফিরে এলাম বন্ধু মাসুমকে নিয়ে সিলেটে। আমার পাশে থাকা নাম না জানা রাইডার ভাই, নাম না জানা রাস্তার ঐ ভদ্রলোক, ট্রাফিক পুলিশ বন্ধু, আফিউর, দিপক, সজল, পাপন, শিহাব, বন্ধু মাসুম, সাইফুল ও লিটন ভাই, জরুরী বিভাগের ও ওটি ডাক্তারগণ, সি.এন.জি ড্রাইভার ভাই, হাসপাতালের মাসী, ওটি দাদু, নাম না জানা অনেকেই। আপনারাই মানুষ। আপনাদের অবদান ভুলবার নয়। আর আমার দুইটা কলিজার টুকরা রমেন চক্রবর্তী টিপু ও রামানুজ চক্রবর্তী অপু তোদের ভালোবাসি ছাড়া কিচ্ছু বলার নেই। মিথ্যা কথা ছাড়া ভালোবাসার আর টেনশন এর তাগিদে আমার আর কিচ্ছু করার ছিলো না।

প্রিয় মা, বাপ্পী, মিথি আমি দুঃখিত। আমি গতকাল আর মন মানছিলো না মা এর সাথে আর মিথ্যা বলতে পারছিলাম না, বলে দিলাম। এখন হালকা লাগছে। আর আজ নিয়ে ১২ দিন হাত ব্যান্ডেজ নিয়ে একা একা ঘরে। আর ভালো লাগছে না এখন ভালো আছি। আর জীবনের একটি অসহায় মূহুর্ত আমাকে জ্বালাচ্ছে প্রতিটি মূহুর্ত, আমাকে কতদিন কতকাল ভোগাবে তাও বলতে পারছি কি? সিগনাল এ দাঁড়ানো একটা গাড়িতে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়, এই গাড়ীর লাইসেন্স কে দেয় আর এই দায়ভারই বা কার? যার জীবন যায়, যে কষ্ট পায় সেই বুঝে আর তার কাছের মানুষ ছাড়া কেউ নয়। এই কয়েকদিনে কতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে আর কতো মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছে তার কোন হিসাব নেই। এই সড়ক কি আমাদের জন্য নিরাপদ হবে না? কতো মানুষ মারা গেলে, কতো মানুষের হাত, পা হারালে এই অভিশাপ থেকে আমরা মুক্তি পাবো? আমরা মানুষ এই আমাদের দেশ আর আমাদের আইন কানুন। স্বাধীন হলাম নামে কিন্তু স্বাধ আজো নিতে পারিনি। আর যেন কেউ দুর্ঘটনায় প্রাণ না হারায় আর আমার মতো ঘরে বসে সময় না কাটাতে হয় আর মিথ্যে কথা বলতে না হয় প্রিয়জনদের। আর কতকাল চলবে এই হত্যা, অত্যাচার আর এর শেষ ই বা কোথায়?