উ.কোরিয়ার পারমানবিক কর্মসূচি স্থগিত

পারমাণবিক অস্ত্র ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জন উন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আলোচনা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বহুল-প্রত্যাশিত বৈঠককে সামনে রেখে শনিবার তিনি এই ঘোষণা দিলেন। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এখবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আজ (২১ এপ্রিল) থেকে পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ রাখা হবে। এমনকি একটি পারমানবিক স্থাপনাও বন্ধ করে দেয়া হবে। প্রেসিডেন্ট কিম জন উন বলেন, পরমানু কর্মসূচি তার কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, এখন কোরীয় উপদ্বীপে অর্থনৈতিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্যই এ কর্মসুচি সথগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার এই ঘোষণার পরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের এক মুখপাত্র বলেন, উত্তরের এই ঘোষণার মধ্যে অর্থপূর্ণ অগ্রগতি রয়েছে। উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আসন্ন বৈঠকের সফলতার জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে এটা সহায়ক হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র জাপান তাতে সন্তুষ্ট নয়। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইটসুনোরি অনোডেরা হুশিয়ারি করে বলেছেন, এ সত্ত্বেও টোকিও পিয়ংইয়ংকে সর্বোচ্চ চাপ দিয়ে যাবে। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার এই ঘোষণায় আমরা সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। কারণ দেশটির নেতা তার ঘোষণায় স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগের কথা উল্লেখ করেনি। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও গণবিধ্বংসী অস্ত্র পরিত্যাগ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পিয়ংইংয়ের ওপর জাপান অব্যাহত চাপ দিয়ে যাবে।

কিন্তু উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ঘোষণাই প্রত্যাশা করেছিল। কোরীয় উপদ্বীপে কূটনৈতিক কার্যক্রমে এটাকে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখছে তারা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটার বার্তায় বলেন, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত ও একটি পরীক্ষা স্থল বন্ধে সম্মত হয়েছে। এটা খুবই ভাল খবর ও বিশাল অগ্রগতি। এখন আমাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যাশা করছি।

দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা মুন জেই-ইনের সঙ্গে আগামী সপ্তাহে বসতে যাচ্ছে কিম জন উন।

তবে পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র পরিত্যাগ করবে কি না, সে ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দেননি কিম। উত্তর কোরিয়া গত বছর সবচেয়ে শক্তিশালী ষষ্ঠ পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার কথাও জানিয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ রয়টার্স