ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

ফ্রান্সের পর এবার স্বপ্নের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জনের স্বপ্ন দেখলেও ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে সেমিফানালেই থেমে গেলো ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ মিশন।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া। শুরুটা দুর্দান্ত করে ইংলিশরা। ঘড়ির কাঁটা ৫ মিনিট না ঘুরতেই গোল পেয়ে যায় তারা। কেইরান ট্রিপারের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলকিপার ড্যানিয়েল সুবাসিচকে ফাঁকি দিয়ে জড়ায় ক্রোয়েশিয়ার জালে। এতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।

এগিয়ে গিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে ইংল্যান্ড। মুহুর্মুহু আক্রমণে ক্রোয়েশিয়াকে ব্যতিব্যস্ত রাখে তারা। একাধিক গোলও পেতে পারতো ইংলিশরা। তবে ১৪ ও ৩৬ মিনিটে দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন হ্যারি ম্যাগুইরে ও জেসি লিঙ্গার্ড।

এর মাঝে ও পরে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ সৃষ্টি করেছিল ক্রোয়েশিয়াও। তবে তারাও স্বার্থ হাসিল করতে পারেনি। ১৯ ও ২৩ মিনিটে নাগালে পাওয়া সুযোগ হাতছাড়া করেন ইভান পেরেসিচ। আর ৪৩ মিনিটে মিস করেন সিমে ভ্রাসালকো। ফলে ১-০ গোলে পিছিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।

বিরতির পর গোল পেতে মরিয়া হয়ে পড়ে ক্রোয়েশিয়া। আপ্রাণ চেষ্টা করে ক্রোয়াটরা। চালায় একের পর এক আক্রমণ। অবশেষে তাদের প্রচেষ্টা আলোর মুখ দেখে। ৬৮ মিনিটে সিমে ভ্রাসালকোর অনন্যাসাধারণ থ্রু থেকে নিশানাভেদ করেন ইভান পেরেসিচ। এতে লড়াইয়ে ফেরে ক্রোয়েশিয়া।

এরপর জমে উঠে ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া লড়াই। পরে অ্যাটাক-কাউন্টার অ্যাটাকে এগিয়ে চলে খেলা। তবে কেউই গোলমুখ খুলতে পারেনি। ফলে ১-১ সমতাতেই শেষ নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা।

শুরু হয় অতিরিক্ত সময়ের খেলা। এখানেও লড়াই চলে হাড্ডাহাড্ডি। তবে ৩০ মিনিটের খেলার ৮ মিনিট বাকী থাকতেই ইংল্যান্ডের জালে আরেকটি গোল দিয়ে নতুন করে ২-১ গোলের ব্যাবধানে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। এরপর মরিয়া বাকী মিনিট মরিয়া হয়ে খেলেও গোলের দেখা না পাওয়ায় ওখানেই শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের এবারের বিশ্বকাপ মিশন।