আসছে নববর্ষ, ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া

নিজস্ব আলোকচিত্রী

চৈত্রের উত্তাপ থাক বা না থাক, চৈত্র শেষ হতে আর দুদিন বাকি। এরপরই বাঙালীর জাতীয় উৎসব; পহেলা বৈশাখ। নতুন বাংলা বছরের শুরু। সারা বছর যেভাবেই কাটুক না কেনো, এদিন আমরা শতভাগ বাঙালি। পোষাকে আশাকে, চলনে বলনে। দেশব্যাপী বাঙালিয়ানার এ উৎসবে মাতে সবাই।

রমনীর বাসন্তী রং শাড়ি, খোঁপায় বেলী ফুলের মতোই বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ পান্তা ইলিশ। পান্তা ইলিশ ছাড়া কি আর বাঙালির নববর্ষ হয়? আর বাঙালির প্রাণের উৎসবে সেই ইলিশের দামই আকাশছোঁয়া।

এই সময়টা এলেই ইলিশের কদর যেমন বাড়ে, বাড়ে তার দামও। বাজারে ছোট সাইজের একটি ইলিশের দাম হাজার টাকা ছাড়ায় অনায়াসেই। নগরীর লাল বাজারে গিয়ে দেখা গেলো হাজার টাকার ইলিশ এখন আর নেই। ইলিশের দাম শুরুই হচ্ছে এক হাজার দুশো টাকা দিয়ে। মাঝারি আকারের ইলিশের দাম আকার ভেদে আঠারো’শ থেকে দু’হাজার টাকা পর্যন্ত। বড় সাইজের একেকটি ইলিশ তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।

বিক্রেতা আব্দুল হাই জানান, বাজারে সরবরাহ কম তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ভিন্নমত ক্রেতাদের। কাজিটুলা থেকে ইলিশ কিনতে আসা বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা ফাহিম সিলেটভয়েস-কে বলেন, বাজারে প্রচুর ইলিশ উঠেছে, তবে যেহেতু মানুষের চাহিদা বেশি তাই এই সুযোগে দাম বাড়িয়ে বেশি মুনাফা করছেন বিক্রেতারা।

দাম যাই হোক ইলিশ ছাড়া পহেলা বৈশাখ হবে কি করে? তাই ১৬০০ টাকা করেই ৩ টি ইলিশ কিনতে হয়েছে গৃহিনী তাহমিনাকে। দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে অনেকটা আক্ষেপের সুরে বলেন, ইলিশের যা দাম তাতে আমার সপ্তাহের বাজার হতো। কিন্তু ছেলে মেয়েদের কথা ভেবেই বেশি দাম দিয়ে হলেও নিতে হচ্ছে। বছরে একটা দিন, এমন উৎসবের দিনে পান্তা ইলিশ ছাড়া মানায় না।

বিক্রেতা সেলিম মিয়া বলেন, এ সময় ইলিশের চাহিদা বাড়বেই। মানুষ পছন্দ করে বৈশাখে ইলিশ খেতে। যে কারণে চাহিদাও বাড়ে, দামও বাড়ে। তবে, মৌসুমী ইলিশ বাজারে আসতে শুরু না করাটাও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এখানে বেশিরভাগ ইলিশই গত মৌসুমের ফ্রিজিং করা ইলিশ। চলতি মৌসুমের ইলিশ আসতে শুরু করলে দাম কমতে শুরু করবে। কিন্তু তা যে পহেলা বৈশাখের আগে নয়, সেটাও বলতে ভোলেননি।