আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের সম্ভাবনা দেখছেন মরিনহো

রাশিয়া বিশ্বকাপের আর বাকি মাত্র ৪ দিন। ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা-তর্ক। কে জিতবে এবারের বিশ্বকাপ- এমন প্রশ্নে অনেকেই জানাচ্ছেন নিজের প্রেডিকশন। এই আলোচনায় এবার যোগ দিলেন ক্লাব ফুটবলের অন্যতম সফল কোচ হোসে মরিনহো।

ব্রিটিশ সাময়িকী জিকিউ-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে মরিনহো বলেছেন, বিশ্বকাপে ভালো করার সম্ভাবনা আছে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের।

মরিনহোর মতে, মেসি ও রোনালদোর মতো খেলোয়াড়েরা এতোই ভালো যে, ওদের টিম কাগজে-কলমে যেমন, ওরা দুজন নিজেদের দলকে তারও চেয়ে ঢের বেশি ভালো দল বানিয়ে দিতে পারে। তাই আমি মনে করি, ভালো করার ক্ষমতা আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের আছে।

মরিনহো সম্ভাবনা দেখছেন ব্রাজিলেরও। বলেছেন, ম্যানেজার তিতের কারণে কৌশলগত ও রক্ষণগত দুদিকেই ভালো খেলার ক্ষমতা ব্রাজিলের রয়েছে। এখনো সহজাত ব্রাজিলীয় প্রতিভায় ভরপুর তারা।

পর্তুগালের বাইরে ইউরোপের দলগুলোর সম্ভাবনা নিয়ে বলতে গিয়ে মরিনহো বলেন, ইউরোপীয় দলগুলোর কথায় যদি আসি তো বলবো, কোয়ালিফাইং রাউন্ডে সত্যিই দারুণ নজর কেড়েছে স্পেন। এক ঝাঁক উঁচুমানের খেলোয়াড় আর অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের মিশেলে গড়া এই দল।

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় কে- এমন প্রশ্নের জবাবে মরিনহো বলেন, এই প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পারবো না। এটা খুবই কঠিন কাজ। আমার জন্ম ১৯৬৩ সালে, সুতরাং ১৯৬৬’র বিশ্বকাপটা আমার জন্য ছিল বড্ড আগের। তবে ফুটবলের ইতিহাসটা আমার ভালোমতোই জানা; আর স্যার ববি চার্লটন ও ইউসেবিওর মতো খেলোয়াড়েরা ছিলেন তখন। ১৯৭০ এর পরের সব দল আর খেলোয়াড়ের কথা আমার মনে আছে। আর এতো এতো পছন্দের খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে আপনি কাকে রেখে কাকে বেছে নেবেন? বেকেনবাউয়ার, পেলে, ম্যারাডোনা ও ব্রাজিলের রোনালদো। এতো এতো মহাতারকা! আর প্রতি চার বছরে একজন নতুন তারকার আবির্ভাব ঘটে! বিভিন্ন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মধ্যে তুলনা করাটা আমার পক্ষে অসম্ভব।

বিশ্বকাপ ফুটবলের রোমাঞ্চ নিয়ে মরিনহো বলেন, ফুটবল ভালোবাসে এমন প্রতিটি মানুষই বিশ্বকাপ নিয়ে রোমাঞ্চ বোধ করে। একটা কথা আমি বরাবরই বলে থাকি, বিশ্বকাপ ব্যাপারটা ফুটবলের চেয়ে বেশি কিছু। আমার দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ (ফুটবল) ও অলিম্পিক হচ্ছে দুনিয়ার সবচে মহার্ঘ দুই ঘটনা। আর আমি এমনটাই মনে করি, যদিও সেরা ফুটবল যে বিশ্বকাপেই খেলা হয়ে থাকে, আমি তা মনে করি না। কেন আমি এমনটা মনে করি? এর কারণ, ক্লাব পর্যায়ে খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার জন্য অনেক বেশি সময় পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক দলগুলোর বেলায় সে সুযোগ থাকে না।