‘আমি এখন কারে লইয়া থাকতাম?’

মা, ভাই ও দুই মামাকে হারিয়ে পাগলপ্রায় সায়েম

স্বজন হারা সায়েম।

“ও আল্লাহ আমি কি অপরাধ করেছি রেবা, আমার সব নিয়া গেলায়। আম্মারে নিলায়, ভাইরে নিলায়, লগে দুই মামারেও নিলায়। আমি এখন কারে লইয়া থাকতাম রেবা” এভাবেই আহাজারি করে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো সায়েম আহমদ। স্বজনরা চেষ্টা করেও থামাতে পারছেন তার কান্না।

শনিবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৬ টায় মৌলভীবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন একই পারিবারের ৪ জনসহ মোট ৬ জন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। রাতে লাশগুলো মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে এক হৃদবিদায়ক অবতারণার সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আকাশ। রাতে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের আহাজারি।

মা, ভাই ও দুই মামাকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে আছে মাদ্রাসা ছাত্র সায়েম আহমদ। মরদেহগুলো দেখে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছে সে। স্ত্রী ও সন্তান হারিয়ে হতভম্ব হয়ে আছেন সায়েমের বাবা মশাহিদ। বাবা-ছেলেকে শত মিথ্যা বলেও শান্ত করা যাচ্ছে না। পুরো হাসপাতাল ভারি হয়ে উঠেছে তাদের বুকফাটা আর্তনাদে।

সায়েমের স্বজনরা জানান, সায়েম খালিশপুর রাহমানিয়া মডেল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র। দিনমজুর বাবা মশাহিদ আহমদ, মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে তাদের পরিবার। এখন এদের হারিয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েছে সে। দুই মামা তাদের টানাপোড়নের সংসারে সহায় ছিলেন তারাও একই ঘটনায় নিহত হলেন। সবকিছু হারিয়ে এখন সে নিঃস্ব।

সায়েমের চাচা ইসমাইল হোসেন বলেন, সায়েমের মা, ভাই ও দুই মামা আত্মীয়র বাড়ি থেকে ফেরার পথে মার্কেটিং করে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় নাদামপুর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা প্রাইভেট কারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা সবাই নিহত হন। এসময় পরিবারের সঙ্গে সায়েমের থাকার কথা থাকলেও সে নানা বাড়িতে থেকে যায়।

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা গোলাম কবির ভূঁইয়া বলেন, মা-ভাই ও মামাদের হারানোর শোকে অজ্ঞান হচ্ছিলো সায়েম। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দিয়ে তার জ্ঞান ফেরানো হয়।