‘আমার বাবার নাম হিটলিস্টে ১১ নম্বরে ছিল’

শাহজাহান বাচ্চুর মেয়ে আঁচল জাহান বলেছেন, আমার বাবা একজন ব্লগার ছিলেন। তিনি ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করতেন। গত তিন বছর ধরে তিনি গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করতেন। একসময় যখন ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছিল, তখন আমার বাবার নাম ১১ নম্বর লিস্টে ছিল। ২ বছর আগে আমার বাবাকে নিয়মিত হত্যার হুমকি দেয়া হতো মুঠোফোনে।

সদ্য এসএসসি পাস করা আঁচল জানান, আমার বাবার ২ স্ত্রী। আমি দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। আমার সৎ মা ও সৎ দুই বোন ঢাকার যাত্রাবাড়িতে থাকে। গ্রামের বাড়িতে বাবার সাথে থাকি আমার মা, আমি এবং নবম শ্রেণির পড়ুয়া ভাই। আমার সৎ বোন দূর্বা জাহান বাবার বিশাখা প্রকাশনী চালায়। অন্য বোন বিপাশা জাহানের বিয়ে হয়ে গেছে।

সোমবার (১১ জুন) সন্ধ্যার ঠিক আগে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের পশ্চিম কাঁঠালদি এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় মুক্তমনা লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহজাহান বাচ্চু কাকালদী তিন রাস্তার মোড়ে আনোয়ারের ওষুধের দোকানে বসে ছিলেন। দুইটি মোটরসাইকেলে চার যুবক এসে তাঁকে ওই ওষুধের দোকান থেকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে বুকে গুলি করে হত্যা করে।

মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিরাজদিখান সার্কেল) আসাদুজ্জামান জানান, দুটি মোটরসাইকেলযোগে ৪ জন দুর্বৃত্ত এই মুক্তমনা লেখককে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে ডিকলারেশন নেয়া ‘আমাদের বিক্রমপুর’ নামের একটি অনিয়মিত সাপ্তাহিক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন শাহজাহান বাচ্চু। তিনি জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।