জেলা বিএনপি নেতা ফারুক আবারো কারাগারে

ওয়ারেন্ট জালিয়াতি মামলা

সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম ফারুককে আবারো কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) সিলেটের সিনিয়র চীফ জুডিশিয়াল (প্রথম) আদালতে হাজির হলে তার জামিন বাতিল করে বিচারক নজরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।

ওয়ারেন্ট জালিয়াতি মামলার আসামী হিসেবে মায়ের মৃত্যুজনিত কারণে প্যারোলে জামিনে ছিলেন তিনি। কিন্তু জামিনে থাকাবস্থায় ভিকটিমকে হুমকীর অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।

বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম ফারুক

গত বছরের ২ ডিসেম্বর ফারুকের এলাকা ওসমানীনগরের নিজ বুরুঙ্গা গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বিএনপি মনোনীত সাবেক ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাজ্জাদুর রহমানকে সিনিয়র চীফ জুডিসিয়াল প্রথম আদালতের সিআর ৭৯/১৫ নম্বর মামলায় গ্রেফতার করা হয়। সেদিন তাকে আদালতে হাজিরের পর বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে জাল ওয়ারেন্ট ইস্যুর বিষয়টি আদালতের বিচারকের নজরে আসে। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য বিচারিক আদালত সিনিয়র চীফ জুডিসিয়াল প্রথম আদালতের বিচারককে নির্দেশ দেন।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায় বিচারক নজরুল ইসলাম ঘটনা তদন্ত করে দেখতে পান, আদালতের বিচারক ও পুলিশ সুপারের স্বাক্ষর জাল করে মিথ্যা কাগজপত্র দিয়ে জাল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। জালিয়াতির ঘটনার সাথে বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম ফারুকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায় আদালত। ৩ ডিসেম্বর সিলেট শহর থেকে গ্রেফতার এবং আদালতে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে কারাগারে পাঠানের নির্দেশ দেন আদালত।

এ ঘটনায় আদালতের নাজির কামাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে একটি মামলা (ওসমানীনগর জিআর ১৮১/১৭) দায়ের করেন।
কারাগারে থাকাবস্থায় আদালতের অনুমতিতে ৪ দিনের রিমান্ডে আনে ওসমানীনগর থানা পুলিশ। রিমান্ড চলাকালে তার মায়ের মৃত্যুজনিত কারণে প্যারোলে জামিন লাভ করেন তিনি। জামিনে থাকাকালে ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদুর রহমানকে হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠে। আদালতের নির্দেশে হুমকি দেয়ার বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পায় পিবিআই।

এ ঘটনায় ভিকটিমপক্ষ আদালতে তার জামিন আবদেন বাতিলের আবেদন জানালে মঙ্গলবার শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ জানান, ‘আমি বিগত ইউপি নির্বাচনে বিএনপির থেকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়ায় ফখরুল ইসলাম ফারুক আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছেন। ‘ সাজ্জাদুর রহমানের আইনজীবি অ্যাডভোকেট গুলজার হোসেন খোকন বলেন, ওয়ারেন্ট জালিয়াতি মামলার আসামী প্যারোলে জামিনে থাকাবস্থায় ভিকটিমকে হুমকী প্রদানের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় মহামান্য আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।