‘আপনারা আমাকে একটু বিষ কিনে দেন’

৮-৯ বছর আগে মারা গেছেন স্বামী; স্বামীর মৃত্যুর পর মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে একমাত্র ছেলে সুজনকে বড় করে তোলেন বিধবা আলেয়া বেগম। এখনও অসুস্থ শরীর নিয়ে মাঝেমধ্যে মানুষের বাড়িতে কাজে যান। বাইরে থেকে যা কিছু রোজগার করেন, সবই ছেলের হাতে এনে তুলে দেন তিনি। কিন্তু এখন অসুস্থ থাকায় আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। কিন্তু এ পরিস্থিতিতেও টাকার জন্য চাপ দেয় ছেলে। শনিবার (১৯ মে) সকালে আলেয়া বেগমের কাছে টাকা চাইলে না দিতে পারায় মাকে মারধর করে ছেলে সুজন। ছেলের নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেছেন এই ভুক্তভোগী মা।

‘মানুষের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে সংসার চালিয়েছি, তবুও ছেলেকে কষ্ট বুঝতে দিইনি। আজ সেই ছেলে আমাকে কথায় কথায় মারপিট করে, খেতে দেয় না, কিছু হলেই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়, আমার আর বাঁচার কোনো ইচ্ছা নেই, আপনারা আমাকে একটু বিষ কিনে দেন।’ এভাবেই বিলাপ করছিলেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার নালুয়া গ্রামের মৃত উকিল উদ্দিন তরফদারের স্ত্রী আলেয়া বেগম (৬২)।

শনিবার (১৯ মে) দুপুরে চিতলমারী থানায় গিয়ে ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। বিলাপ করতে করতে থানায় উপস্থিত হন এ বিধবা নারী। এরপর থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে ছেলের নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বিষ চেয়েছেন এ হতভাগা মা।

আলেয়া বেগম জানান, ছেলে তাকে সামান্য ব্যাপারে গায়ে হাত তোলে। সারারাত বাইরে থেকে জুয়া খেলে ঘরে ফেরে। প্রতিদিন তাকে টাকা দিতে না পারলে মারধর করে। এখন আর ধৈর্য নেই। নিরুপায় হয়ে থানায় এসেছি।

এ সময় উপস্থিত লোকজনকে তিনি বলেন, আপনারা আমাকে একটু বিষ কিনে দেন। আমি আর ঘরে ফিরতে চাই না। বাড়িতে গেলে ছেলে যদি জানতে পারে যে- তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছি, তাহলে আমাকে আর জ্যান্ত রাখবে না।

আলেয়া বেগমের এমন অভিযোগের ব্যাপারে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুকূল সরকার জানান, আলেয়া বেগমের কাছ থেকে ছেলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুত্র : বাংলা ট্রিবিউন