আদায় অযোগ্য ঋণ ১০.৬৭ শতাংশ: সংসদে অর্থমন্ত্রী

আদায় অযোগ্য ঋণের পরিমাণ ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সংসদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
ওই সংসদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি ২১ লাখ টাকা। এটি মোট ঋণের ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ।’

এর আগে সংসদ সদস্য লতিফ ২০১৭ সালের ব্যাংকিং খাতে আদায় অযোগ্য ঋণ বেড়ে কত দাঁড়িয়েছে তা জানতে চান। জবাবে অর্থমন্ত্রী ‘আদায় অযোগ্য‘ শব্দটি ব্যবহার না করে তার স্থলে ‘শ্রেণিকৃত‘ শব্দটি ব্যবহার করেন। এছাড়া অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এই সংসদ সদস্য খেলাপি ঋণ শব্দটি ব্যবহার করলে সেখানেও খেলাপি ঋণ শব্দটির স্থলে শ্রেণিকৃত শব্দ ব্যবহার করেন অর্থমন্ত্রী।

ওই সংসদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বর ২০১৭ ভিত্তিক ত্রৈমাসিক সমগ্র ব্যাংকিং সেক্টরে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায়ের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ১১০ কোটি টাকা (৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ)।

রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকের আমানত ক্রমাগতভাবে কমে যাওয়ার তথ্য সঠিক নয় বলে সরকারি দলের মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে বলে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ বেড়েছে। নভেম্বর ২০১৬-এর তুলনায় নভেম্বর ২০১৭ শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৬টি ব্যাংকের আমানতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এ সময় সংরক্ষিত আমানতের পরিমাণ ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা।’

মৌলভীবাজার-২ আসনের সদস্য আবদুল মতিনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকের বৈষম্যের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়র তথ্যটি সঠিক নয়। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০৭ পর্যন্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সরকারি ব্যাংক হতে ৯ হাজার ৫৩২ কোটি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে এক লাখ ৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।’

ফেনী-১ আসনের সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে (জানুয়রি ২০১৮) ব্যক্তি করদাতার সংখ্যা ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১০১ জন। অর্থমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী ঢাকা জেলায় ব্যক্তি আয়করের সংখ্যা সব থেকে বেশি। এই সংখ্যা ১২ লাখ ৬৩ হাজার ৬১১ জন। আয়করের সংখ্যা সব চেয়ে কম হচ্ছে মেহেরপুরে ছয় হাজার ৬৯৪জন।