আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টুর বিরুদ্ধে ক্লিনিক দখলের অভিযোগ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রোডস্থ গ্রীণ হেলথ্ প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামক প্রতিষ্ঠান জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজার পৌর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী এমদাদুল হক মিন্টুর বিরুদ্ধে। রবিবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, মৌলভীবাজার শহরের শ্রীমঙ্গল রোডস্থ এমদাদুল হক মিন্টুর মালিকানাধীন ভবনে স্বনামধন্য গ্রীণ হেলথ্ প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যৌথ অংশীদারী ব্যবসা করার জন্য বিগত ২০১৬ সালের ৪ জানুয়ারি ব্যবসায়িক অংশীদারী চুক্তিপত্র সম্পাদন করে শেয়ার হোল্ডারগণ ব্যবসার অংশীদার হই। আমরা সবাই মিলে বিনিয়োগ করে অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলাম। কিন্তু, ভবন মালিক এমদাদুল হক মিন্টুর সাথে প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেলাল তালুকদারের ভাড়াটিয়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায়, চুক্তি নবায়নকে কেন্দ্র করে বিগত ২০১৭ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়িক দ্বন্ধ সৃষ্টি হলে ভবন মালিক এমদাদুল হক মিন্টু প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন।

পরবর্তীতে গ্রীণ হেলথ্ প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বিক্রি করার সিদ্ধান্ত হয়। এমদাদুল হক মিন্টু উক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ক্রয় করার জন্য আবু সাইদ চৌধুরীকে সুপারিশ করায় তিনি নতুন চুক্তির মাধ্যমে ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৫ লাখ টাকা জামানতের ভিত্তিতে একটি চুক্তিনামা সম্পাদন করা হয়। সেই চুক্তির ভিত্তিতে নতুন করে প্রতিষ্ঠানের ২ জন শেয়ার হোল্ডারের টাকা ফেরৎ প্রদানসহ ১৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন আবু সাঈদ। পরে উক্ত প্রতিষ্ঠানের নতুন নামকরণ করা হয় গ্রীন লাইফ প্রাঃ হাসপাতাল।

এমতাবস্থায় এমদাদুল হক মিন্টু এবং তার সহযোগী মো. ফাহাদ এ আলম, হোসাইন আহমদ ও মো. মজনু মিয়া তাঁর জামানতের ৫ লাখ টাকা ও মূলধন ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাঁকে আমাকে বিতাড়িত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় বলে অভিযোগ করেন আবু সাঈদ।
আবু সাঈদ আরো জানান, তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখতে পান হোসাইন আহমদ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চেয়ারে বসে আছেন। কারণ জানতে চাইলে, তাঁর সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য পরিচালককে বিষয়টি অবহিত করলে এমদাদুল হক মিন্টু এবং তার সহযোগী মো. ফাহাদ এ আলম, হোসাইন আহমদ ও মো. মজনু মিয়া আমার বিনিয়োগকৃত সাকুল্য অর্থ ফেরত নিয়ে তাঁকে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে প্রস্তাব দেন। এতে সম্মত না হলে তারা নানা রকম হুমকি দিতে থাকে।

এমদাদুল হক মিন্টু তাঁকে ফোন করে বাসায় ডেকে নিয়ে প্রণনাশের হুমকি দেয় এবং মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ১শত টাকা মূল্যের ৩টি অলিখিত ষ্ট্যাম্পে এবং দুইটি চেকের পেছনে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয় বলে অভিযোগ করেন আবু সাঈদ। এভাবেই এমদাদুল হক মিন্টু এবং তার সহযোগী মোঃ ফাহাদ এ আলম, হোসাইন আহমদ ও মো. মজনু মিয়া গ্রীন লাইফ প্রাঃ হাসপাতাল জবরদখল নেয় বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১নং আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন আবু সাইদ চৌধুরী, মামলা দায়েরের পর থেকে তার স্বাক্ষীদেরকে ও তাঁকে বিভিন্ন উপায়ে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন এমদাদুল হক মিন্টু।