অভিনব প্রতিবাদে উচ্চারিত হলো ‘হোক আলিঙ্গন’

ছবি: আনন্দবাজার

কলকাতা মেট্রো রেলে নীতি পুলিশের দাপাদাপির বিরুদ্ধে ফের প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন শহরের মানুষ। বুধবার (২ মে) দুপুর ১২টার দিকে টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশনের সামনে জমায়েত হয় অসংখ্য তরুণ-তরুণী। পোস্টার-প্ল্যাকার্ড-স্লোগানে তাঁরা আওয়াজ তোলেন, ‘হোক আলিঙ্গন’। আলিঙ্গন যে আদৌ অশ্লীলতা নয়, অনৈতিক নয়, অপরাধ নয়, সেটা যে দুটো মানুষের ভালবাসার অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ, সেই বার্তাই দেন ওই প্রতিবাদকারীরা।

প্রতিবাদে যারা এসেছিলেন তাঁদের কেউ ছাত্রছাত্রী, কেউ চাকুরিজীবী আবার কেউ বা অভিনেতা। এ দিনের প্রতিবাদে সামিল হন বিভিন্ন পেশার মানুষ। দুপুরের চড়া রোদ উপেক্ষা করে প্রতিবাদীদের কণ্ঠ সরব হতে থাকে বারবার।

প্রতিবাদে সামিল এক তরুণী বলেন, “বন্ধুত্বের মধ্যে লিঙ্গভেদ দেখা হয় না, সেই সঙ্কীর্ণতা কাটিয়ে উঠুক আমাদের চারপাশের মানুষ। কেননা, এই শহর এ ধরনের সঙ্কীর্ণতা দেখতে অভ্যস্ত নয়। এবং এই শহর এ সঙ্কীর্ণতাকে ঠাঁই দেবে না— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা ভিড়ের মধ্যে থেকে বারবার আওয়াজ ওঠে, ‘হোক আলিঙ্গন’। এর পর মেট্রো স্টেশনের সামনেই পরস্পর পরস্পরকে আলিঙ্গন করেন প্রতিবাদীরা। তাঁদের একাংশ মেট্রোর কামরাতেও ওঠেন আলিঙ্গনরত অবস্থায়। এভাবেই হয় এক অভিনব বিক্ষোভ।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩০ এপ্রিল) কলকাতার দমদম স্টেশনে মেট্রো রেলে ‘ঘনিষ্ঠ’ ভাবে দাঁড়ানোর অপরাধে প্রেমিক যুগলকে মারধর করেন কিছু যাত্রী। আক্রমনকারীদের দাবি ছিলো- ওই তরুণ-তরূণী ট্রেনের ভেতর পরস্পরের আলিঙ্গনে ছিলেন, যা ‘অশালীন’।

ওই মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে এখন উত্তাল কলকাতা। অনেকেই ক্ষোভ জানিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন, কে ঠিক করে দিল শ্লীল আর অশ্লীল ভেদাভেদ? কোন নিক্তিতে মাপা হল প্রকাশ্যে কী করা উচিত আর কোনটা নয়? সেই ক্ষোভের ধারাবাহিকতায় পালিত হলো বুধবারের এই অভিনব প্রতিবাদ।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা