অনুমতি না নিয়ে শাবিতে ফের গাছ কাটার অভিযোগ

0
0

বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে ফের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছেন, গাছগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত কেটে ফেলতে হয়েছে। ফলে বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া সম্ভব হয় নি।

শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার সংলগ্ন রাস্তার পাশে চারটি গাছ কেটে ফের সমালোচনায় আসেন শাবিপ্রবি প্রশাসন। এর আগে ২০২০ সালের ২৬ জুলাই অনুমতি না নিয়ে গাছ কাটার অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়ে প্রশাসন। সেই সময়ে করোনা মহামারির কারণে ক্যাম্পাস  বন্ধ থাকায় ফাঁকা ক্যাম্পাসে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এবারও শুক্রবার ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সুযোগে শিক্ষার্থীদের অগোচরে ফের গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঝড় বৃষ্টিতে গাছের ডাল ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এক কিলো রোড’, ইউনিভার্সিটি সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার সংগল্ন রাস্তাসহ বিভিন্ন জায়গায় গাছের ডাল কেটেছেন কর্তৃপক্ষ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার সংলগ্ন রাস্তার পাশে ৪টি গাছ কাটা হয়। এছাড়া বৈদ্যুতিক তারের কারণে বিভিন্ন জায়গায় গাছের ঢাল কাঁটা হয়।

শিক্ষার্থীদের অগোচরে বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে প্রায় গাছ কাটা হয় এমন অভিযোগ তুলে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রণ্ট শাবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক তানভীর রহমান বলেন, আজকে ক্যাম্পাস বন্ধ। শিক্ষার্থীরা কেউ ক্যাম্পাসে নাই। এ সুযোগে প্রশাসন গাছের ডাল কাটতে গিয়ে গাছ-ই কেটে ফেলছে। এর আগে করোনাকালীন সময়েও একবার গাছ কাটা হয়েছিল। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে মনে করছেন তিনি।

জিওগ্রাফী এন্ড এনভায়রোনমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সুলতানা আক্তার লুবনা বলেন, দিনদিন বৈষ্ণিক তাপমাত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে গাছ কাটার পরিবর্তে গাছ লাগানোর কথা বলছেন বিশেষ্ণরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফাঁকা ক্যাম্পাসে গাছ কাটতেছে। এতে একদিকে যেমন প্রকৃতি ধ্বংষ হচ্ছে অন্যদিকে পাখিদের আবাসস্থলও কমে যাচ্ছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো কারণে গাছগুলো ঠিকমতো বেড়েও উঠতে পারছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্ট্যাট শাখার প্রধান এবং বন ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. রোমেল আহমেদ বলেন, গাছগুলোর ভেতরের অংশ ফাঁপা হয়ে গেছে। এতে যেকোনো সময় তা ভেঙে পড়তে পারে। এজন্য গাছগুলো কাটা হয়েছে। সময় সল্পতার কারণে বন বিভাগ থেকে অনুমতি নেওয়া সম্ভব হয় নি। তবে পরবর্তীতে অনুমতি নিয়ে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কাটা হবে।