অগ্রণী ব্যাংকে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি লোপাট

অগ্রণী ব্যাংকের অর্ধশত কোটি টাকারও বেশি হজম করে ফেলেছে বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের এখন কোনো হদিসই মিলছে না। আর কিছু প্রতিষ্ঠান দেদারসে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও তাদের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করা হচ্ছে না। যে কারণে ব্যাংকটির ৫৪ কোটি ৫০ লাখ ৮২ হাজার ২৫৪ টাকা ক্ষতি হয়ে গেছে।

জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বার্ষিক অডিট রিপোর্টে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিটি এনিয়ে বৈঠকে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাওনা টাকা আদায়ে পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আমানউল্লাহ, মো. রুস্তম আলী ফরাজী, আ,ফ,ম, রুহুল হক, মো. শামসুল হক টুক ও রেবেকা মমিন। সিএন্ডএজি মাসুদ আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমানসহ অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উত্থাপিত ২০১১-১২ অর্থ বছরের ওই প্রতিবেদনে ক্ষতির পরিসংখ্যান দিয়ে বলা হয়, চালু প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা আদায় না করায় ক্ষতি এবং শ্রেণীকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ বাবদ ব্যাংকের ক্ষতি হয়েছে ৮ কোটি ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩০ টাকা। রপ্তানী ব্যর্থতায় সৃষ্ট ডিমান্ড লোনের টাকা পুনঃতফসিল সত্তেও প্রকল্পের টাকা ও মেয়াদোত্তীর্ণ চলতি মূলধন ঋণের টাকা তদারকির অভাবে আদায় না হওয়ায় ব্যাংকের ক্ষতি হয়েছে ১৩ কোটি ১২ লাখ ২৭ হাজার ১৯০ টাকা।

খুলনা মেটাল লিমিটেডের সিসি প্লেজ হিসেবে ডিপি ঘাটতি ২ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬১ টাকা এবং সিসি, এলটআর হিসেবে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ বাবদ ক্ষতি ১২ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা। মেসার্স এম,আর,রাইস মিলস (প্রাঃ) লিমিটেডকে বিধিবহির্ভুত ঋণ মঞ্জুরকরত ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণের অর্থ অন্যত্র স্থানান্তরপূর্বক খেলাপীতে পর্যবসিত হওয়ায় ক্ষতি ৬ কোটি ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৭টাকা। অনিয়মিতভাবে প্রকল্পে ঋণ বিতরণ এবং খেলাপী হওয়ার দীর্ঘদিন পরও ঋণের অর্থ আদায় না হওয়ায় ব্যাংকের ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ৪ হাজার ৭৪০ টাকা। ব্যাংকের মুন্সিপাড়া শাখার ঋণগ্রহীতা মেসার্স এম, আর, ফ্লাওয়ার মিলস (প্রাঃ) লিমিটেডকে বিধিবহির্ভুত ভাবে ঋণ মঞ্জুরকরত ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণের অর্থ অন্যত্র স্থানান্তরপূর্বক খেলাপীতে পর্যবসিত হওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৫ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ৪০০ টাকা। মঞ্জুরী পত্রের শর্তানুযায়ী ঋণের টাকা সমন্বয় না হওয়ায় খেলাপী ঋণের সীমাতিরিক্ত দায়সহ মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ বাবদ ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি ১৬ লাখ ৯৪ হাজার ১১৮ টাকা এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও ঝুঁকি বিবেচনা না করে মেসার্স উত্তরা হিমঘর লিমিটেডের জামানতে দ্বিতীয় চার্জের বিপরীতে সিসি (প্লেজ) ঋণ প্রদান করায় এবং প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্যোক্তা দেশান্তরী হওয়ায় ও প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে খেলাপী হওয়া সত্ত্বেও আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ব্যাংকের ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৩৬ হাজার ৯৩৪ টাকা।

বৈঠকে কমিটি অনাদায়ী টাকা আদায় এবং আদায়কৃত টাকার প্রমাণাদি জমাদান সাপেক্ষে এসব আপত্তি অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির সুপারিশ করে। সেই সঙ্গে করা মামলা নিবিড় তদারকি, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয় বৈঠকে।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল